shono
Advertisement
Ranojoy Shyamoupti Wedding

প্রেমদিবসেই ছাঁদনাতলায় রণজয়-শ্যামৌপ্তি, বিয়ের আয়োজন থেকে হানিমুন প্ল্যান নিয়ে অকপট হবু দম্পতি

রাত পোহালেই ছাঁদনাতলায় রণজয়-শ্যামৌপ্তি, কে প্রথম কাছে এসেছিল? বিয়ের আগের দিন সংবাদ প্রতিদিন-এর কাছে সবটা ফাঁস করলেন হবু দম্পতি।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 02:42 PM Feb 13, 2026Updated: 03:07 PM Feb 13, 2026

ভালোবাসার দিনে সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন রণজয় বিষ্ণু এবং শ্যামৌপ্তি মুদলি। কীভাবে শুরু হল তাঁদের প্রেম? বিয়ের সাজপোশাক, খানাপিনাই বা কেমন?

Advertisement


রণজয় না শ্যামৌপ্তি, কে প্রথম কাছে এসেছিল?...
রাত পোহালে ভ্যালেন্টাইনস ডে। আর এই বিশেষ দিনেই চার হাত এক হচ্ছে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির। কেমন তাঁদের প্রেমের গল্পটা? কে প্রথম কাছে এসেছিল? কে প্রথম প্রোপোজ করেছে? রণজয় বলছেন ‘কেউ কাউকে প্রথম বলেনি। হঠাৎ করেই ঘটে যায়। আমার খুব খারাপ সময়ে শ্যামৌপ্তি পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, কোনও প্রত্যাশা ছাড়াই। সেই সময় আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। আমি বরং ওর কাছে কৃতজ্ঞ। তখন সকলের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতাম, এমনকী ওর সঙ্গেও। কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইতাম না। তবে আমি জানি না, ও কেন আমার সঙ্গে নিজে থেকেই কথা বলত। আমাকে বার বার বলত, সব ঠিক হয়ে যাবে। সেই সময় আমি অনেক ওষুধ-টষুধ খেতাম, শ্যামৌপ্তিই আমাকে ওষুধ ছাড়ায়।’ তবু প্রেমের শুরুয়াত কখন? “অ্যাকচুয়ালি লাদাখে মিউজিক ভিডিও-র শুটিংয়ে ব্যাপারটা ঘটে। তার আগের তিন-চারমাস হালকা হালকা দেখা হত, ফোনে কথা হত। শ্যামৌপ্তিই আমার খোঁজ নিত। তবে ‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকের সূত্রে আমাদের দেখা হলেও, পুরো প্রোজেক্টে আমরা কেউ কারও সঙ্গে কথা বলিনি। শেষ তিন মাস একটু হাই-হ্যালো হয়েছিল, ব্যস।”

লাদাখে রণজয় বিষ্ণু, শ্যামৌপ্তি মুদলি, ছবি- সংগৃহীত


বিয়ের সাজপোশাক...
বিয়ের দিনে প্রস্তুতি কেমন? ‘আমরা দুজনেই অনুশ্রী মালহোত্রার পোশাক পরছি। ও পরছে লাল রঙের শাড়ি। আমি অফ হোয়াইট।’ বলছেন রণজয়। শ্যামৌপ্তি যোগ করলেন, ‘শাড়ির আঁচলে গোল্ডেন-রঙা গাছকৌটোর কাজ। আর রণজয়ের জ্যাকেটে থাকছে শঙ্খ।’ তিনিও বলছেন, “সো-কলড প্রোপোজ আমরা করিনি। লাদাখে শুটিং করতে গিয়ে আমরা একে-অপরকে অন্যরকমভাবে আবিষ্কার করেছি। তার আগে যেটার মধ্যে আমরা ছিলাম, সেটাকে প্রেমের সম্পর্ক বলতে পারি না। কিছুটা বন্ধুত্ব বলতে পারি, তবে পুরোপুরি নয়। কারণ, ওটা একতরফা ছিল, শুধুই আমার দিক থেকে। আমি বরাবরই কেউ যদি কোনও সমস্যায় থাকে, মানুষটার যদি ভালো হয়, আমি যদি তাকে কোনওরকমভাবে সহযোগিতা করতে পারি, সেই চেষ্টাই করি। ‘গুড্ডি’র শেষ তিন মাস হাই-হ্যালোর থেকে একটু বেশিই কথা হত, সিন ইত্যাদি নিয়ে যেমন একজন সহ-অভিনেতার সঙ্গে কথা হয়। তখনই লক্ষ করি ওর কিছু সাইকোলজিকাল সমস্যা। আমার পড়াশোনা কিছুটা সাইকোলজি নিয়ে, সব দেখে আমার মনে হয়েছিল, ওর জীবনটা ঠিক পথে নেই। মানে ওষুধপত্র, কাউন্সেলিংগুলো ঠিক দিকে যাচ্ছে না। তারপর থেকে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলা শুরু হয় এবং আমরা একে অপরকে আবিষ্কার করি।”

রণজয় বিষ্ণু, শ্যামৌপ্তি মুদলি, ছবি- সংগৃহীত

রণজয়-শ্যামৌপ্তির কমন ফ্যাক্টর...
প্রসঙ্গত, রণজয় কবিতা লিখতে পছন্দ করেন। শ্যামৌপ্তিও লেখালিখি ভালোবাসেন। থিয়েটার দেখতে যাওয়া দু’জনের কমন পছন্দ। তবে তাঁদের সবচেয়ে কাছে এনেছিল পারস্পরিক বিশ্বাস। ‘দুজনকেই এফর্ট দিতে হয় বিশ্বাস তৈরিতে। দুজনের সক্রিয়তায় এই সম্পর্ক একটা জায়গায় পৌঁছয়, তারপর আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই।’ বললেন অভিনেত্রী। আর অতীত সম্পর্ক তাঁকে ভাবায়নি? শ্যামৌপ্তি বলছেন, ‘আমাদের সম্পর্কের ইউএসপি আরাম। কোনও কিছুই ভাবায়নি আমাদের। শেষ পর্যন্ত তো আমরা সামনের দিকেই এগিয়ে যাব, অতীতের যে কোনও কিছু থেকেই আমরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা পরিণত মানুষ হয়ে উঠি।’

রণজয় বিষ্ণু, শ্যামৌপ্তি মুদলি, ছবি- সংগৃহীত

বিয়ের খানাপিনা থেকে মধুচন্দ্রিমার প্ল্যান...

প্রেম দিবসেই বিয়ের দিন, দক্ষিণ কলকাতার একটি অভিজাত জায়গায় অনুষ্ঠান এবং বাঙালি খাওয়াদাওয়ার আয়োজন থাকছে। মেনুতে ভাত, ডাল, রণজয়ের পছন্দের বেগুনভাজা আর অনেক পদ থাকছে। আর মাটন কষা, মাছের প্রিপারেশন তো থাকছেই। ডেজার্টে রাবড়ি, মাখা সন্দেশ ইত্যাদি। তবে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই বিয়ের তারিখ আগে থেকে পরিকল্পনা করেননি, হয়ে গেছে, এমনটা বললেন দু'জনেই। বিয়ের পরে দুজনে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। শ্যামৌপ্তির প্রথম ফিচার ফিল্মের ডাবিংয়ের কাজ চলছে। রণজয়েরও বেশ কিছু নতুন প্রোজেক্টের কথা চলছে। কাজেই বেড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা এক্ষুনি নিশ্চিত নন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement