পরনে হালকা রঙের শার্ট, চোখের মুখে বিষণ্ণতার ছাপ! মাথা মুড়িয়ে টুপি পরে জনসংক্ষে সলমন। ভালো নেই ভাইজান? সোশাল মিডিয়ায় সলমনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বিগ্ন সলমনের অনুরাগীরা। পেটানো গড়ন, সিক্স প্যাক অ্যাবস সবই তো উধাও! অস্বাভাবিক হারে কমেছে ওজন! প্রচণ্ড রোগা লাগছে সলমনকে। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অগণিত অনুরাগী।
আমির খানের প্রযোজনা সংস্থার পঁচিশ বছর পূর্তির দিন প্রথমবার প্রশ্ন উঠেছিল সলমনের শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ? এমনও শোনা গিয়েছিল, চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যেতে নারাজ অভিনেতা। পরিবারের কথা মোটই কানে তুলছেন না সলমন। তাঁর ধ্যানজ্ঞান শুধুই ঝুলিতে থাকা গুচ্ছ গুচ্ছ প্রোজেক্টের কাজ সঠিক সময়ে শেষ করা। প্রসঙ্গত, শনিবার 'স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি'র ডিজিটাল সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সলমন। যাওয়ার পথেই সেলেব পাপারাজ্জিদের ক্যামেরাবন্দি হন।
এই সফরের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায় ভক্তমহলে। সমাজমাধ্যমে অনুরাগীরা তাঁর সুস্থতা কামনা করেছেন। এক ভক্ত লিখেছেন, 'অসুস্থ মনে হচ্ছে। ঈশ্বর ওঁকে সুস্থ রাখুন।' অপর এক অনুরাগী উদ্বেগের সঙ্গে লিখেছেন, 'মনে হচ্ছে ওঁর শরীরে কোনও সমস্যা হয়েছে।' কেউ আবার 'কিং' সম্বোধন করে বলেছেন, 'আমার কিংয়ের কী হয়েছে?'
অসুস্থ সলমন?
অনেকে তো আবার চেহারার এই আমূল পরিবর্তন দেখে বিশ্বাসই করতে পারেননি এটা বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। চোখে-মুখে বয়সের ছাপ প্রকট হয়েছে বলে দাবি বহু প্রত্যক্ষদর্শীর। তাঁদের মধ্যে কেউ লিখছেন, 'মুখটা দেখুন, একেবারে দাদুর মতো লাগছে। ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না।'
অপরজনের মন্তব্য, 'সলমন খানের কী হয়েছে? ৮০ বছরের বৃদ্ধের মতো দেখাচ্ছে।' অনেকে আবার ষাটোর্ধ্ব সলমনের স্বাভাবিক চেহারা বলেই মনে করছেন। বয়সের সঙ্গে মুখের পরিবর্তন হয়েছে বলেই মনে করছেন। দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে সলমনের তুলা টেনে একজন বলেন, 'ভারতীয় সিনেমার একজন সুপারস্টারের পক্ষে প্রকাশ্যে নিজের বয়সকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া নিঃসন্দেহে সাহসীকতার পরিচয়। রজনীকান্ত যেমন করেছেন তেমনই সলমন খানও সমান সম্মানের অধিকারী।'
অপর এক ব্যক্তিও সহমত পোষণ করে বলছেন, 'বলিউডের তারকারা সাধারণত বয়সের ছাপ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সলমন খান প্রকাশ্যে নিজের স্বাভাবিক চেহারাতেই এসেছেন। তবে শরীরে সত্যিই কোনও সমস্যা চলছে কিনা সেটা তো এখনও নিশ্চিত নয়।' ‘স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি’র ডিজিটাল সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন গিয়েছিলেন ভাইজান?
পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ৫০টিরও বেশি পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন সলমন। তাঁর হাত থেকে বাড়ির চাবি পেয়ে আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৫০টিরও বেশি পরিবার। সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর অবদানের কথা কমবেশি সকলেরই জানা। নিজস্ব সংগঠন ‘বিয়িং হিউম্যান: দ্য সলমন খান ফাউন্ডেশন’বহু বছর ধরে সমাজসেবামূলক কাজ করছে।
