shono
Advertisement
Suvendu Adhikari

খুনের হুমকি পেতেই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ সোহম, প্রশংসায় ভরালেন শুভেন্দুর 'জিরো টলারেন্স' নীতিকে

অভিযোগ, বিজেপির নাম করে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন প্রযোজক। এরপর থেকেই নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তৃণমূলের প্রাক্তন তারকা বিধায়ক।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 07:38 PM May 20, 2026Updated: 07:51 PM May 20, 2026

প্রযোজকের কাছে খুনের হুমকি পেতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দ্বারস্থ সোহম চক্রবর্তী। বুধ সকালেই জানিয়েছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন। এবার 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান তুলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া প্রযোজকের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।

Advertisement

"যারা দলের নাম করে, 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান তুলে এরকম আচরণ করছে, অশালীন ব্যবহার করছে, সেসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ পদক্ষেপ করেন তিনি।..." 

রাজ্যে পালাবদলের আবহে চর্চার শিরোনামে সোহম চক্রবর্তী। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে করিমপুরে হেরে এযাবৎকাল লাইমলাইটের অন্তরালেই ছিলেন নেতা-অভিনেতা। তবে বুধবার রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন তারকা বিধায়ক। অভিযোগ, বিজেপির নাম করে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন প্রযোজক। এরপর থেকেই নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তৃণমূলের প্রাক্তন তারকা বিধায়ক। সেই প্রেক্ষিতেই শুভেন্দু অধিকারীর 'জিরো টলারেন্স' নীতির প্রশংসা করে বিশেষ অনুরোধ রেখেছেন তিনি। এপ্রসঙ্গে সংবাদ প্রতিদিন-এর সাক্ষাৎকারে সোহমের মন্তব্য, "মাননীয় গৃহমন্ত্রী এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের কাছে আমার অনুরোধ, যারা দলের নাম করে, 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান তুলে এরকম আচরণ করছে, অশালীন ব্যবহার করছে, সেসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ পদক্ষেপ করেন তিনি। আমার নিরাপত্তার নিয়ে ভয় রয়েছি। তাই মুখ্যমন্ত্রী যদি বিষয়টা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন, তাহলে আমি বাধিত হব।" সোহমের সংযোজন, "আমি সত্যিই অভিভূত যেভাবে তিনি গোটা রাজ্যজুড়ে হুলিগানিজমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স-এর পথে হাঁটছেন।"

সোহমকে খুনের হুমকি প্রযোজকের! ছবি- সংগৃহীত

কীসের প্রেক্ষিতে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন? সোহম চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে একটি ছবি করার কথা ছিল তাঁর। পরিচালক ছিলেন মহুয়া চক্রবর্তী। আর প্রযোজক তরুণ দাস। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য নিয়মমাফিক সোহমকে তাঁরা অগ্রীম ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই পরিচালকের সঙ্গে প্রযোজকের মনোমালিন্য হওয়ায় সিনেমার কাজ আটকে যায়। মহুয়া সোহমকে ফোন করে জানান, প্রযোজক তরুণ দাসের আচরণে স্বচ্ছন্দ্যবোধ না করাতেই তিনি এই সিনেমা থেকে সরে যাচ্ছেন। এরপর সব চুপ! কাট টু ২০২৬ সালের মে মাস। আচমকাই নাকি প্রাক্তন তারকা বিধায়কের আপ্ত সহায়ককে ফোন করে বিজেপির নাম নিয়ে ওই প্রযোজক পারিশ্রমিক ফেরত চান এবং নানা কথা বলা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, সোহমের দাবি, তিনি নতুনভাবে সিনেমাটা তৈরি করার আর্জি জানানোর পরও শুনতে নারাজ প্রযোজক।

সোহমের বক্তব্য, আর্থিক বা পেশাগত মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেকারণে কাউকে ভয় দেখানো বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া, কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন তিনি। 

সংশ্লিষ্ট ইস্যু বিশদে জানার জন্য অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে। সোহম বলেন, “ঘটনা ২০১৮ সালের। তরুণ দাস নামে এক প্রযোজক, যাঁকে আমি এর আগে কোনওদিন চাক্ষুষ করিনি। ফোনেও কথাও হয়নি। ওঁর হয়ে সিনেমার পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী এবং তার ইপি অমিতাভ মুখোপাধ্যায় আমাকে গল্প শুনিয়েছিলেন। আমারও গল্পটা ভালো লাগায় আমিও তখন সবুজ সংকেত দিই। এরপর অগ্রীম বাবদ আমাকে তাঁরা ১৫ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছিল। সেটা মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য আমার ডেট ব্লক করার জন্যেই। এরপর আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি তাঁরা। আমি ফোন করে যখন কাজটার বিষয়ে জানতে চাই, তখন আমাকে জানানো হয়- ‘টেকনিক্যাল কারণের জন্য কাজটা পিছিয়ে গিয়েছে।’ এরপর হঠাৎ একদিন পরিচালক মহুয়া আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান প্রযোজক ওর সঙ্গে দুর্ব্য়বহার করায় উনি প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এরপরও আমি বারবার ওদের নিজেদের মধ্যেকার ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার অনুরোধ করি। নতুবা অন্য কোনও পরিচালককে দিয়ে সিনেমাটা করানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষমেশ ছবিটা আর হয়নি। এখন হঠাৎ করে ৮ বছর বাদে দু’দিন আগে আমার আপ্ত সহায়ক সুমনকে ফোন করে পারিশ্রমিক চেয়ে বসেন উনি। আমি জানাই, ওই ১৫ লক্ষ জুড়েই আমি বাকি পারিশ্রমিক নেব। এখনকার হিসেবে অতিরিক্ত টাকা আমার দরকার নেই। কিন্তু উনি তাতে রাজি হননি। তাছাড়া, মাঝখানে অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গিয়েছে, ওঁরাই কাজটা করেনি। আমি তো সেই সিনেমার জন্য অন্য ছবিও ছেড়েছি। এরপরই বিজেপির নাম নিয়ে নানা কথা বলা শুরু করেন, ওই ব্যক্তি। সরকার বদলেছে, সমস্যায় পড়তে হবে বলেও হুমকি দেন! আমি নতুন গল্প নিয়ে সিনেমা করার প্রস্তাবও দিই ওঁকে। কিন্তু উনি পালটা আমাকে বলেন, এরপর আমি নাকি নগ্ন হয়ে রাস্তায় ঘুরব! আমাকে শুনিয়ে গুলি করার কথাও বলেন।”

উল্লেখ্য, সিনেইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী অগ্রীম টাকা এক্ষেত্রে ফেরতযোগ্য নয়, কারণ প্রযোজক নিজেই ছবিটি তৈরি করেননি। সোহমের বক্তব্য, আর্থিক বা পেশাগত মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেকারণে কাউকে ভয় দেখানো বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া, কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং আইনি পথে এগোতে চান বলেও জানিয়েছেন অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক। এবার সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপের আর্জি রাখলেন সোহম।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement