‘আবার প্রলয় টু’ আসছে ‘বাংলা জি ফাইভ’-এ শিগগির। অবার কি ধুন্ধুমার অ্যাকশন?
- এবারে অ্যাকশন অনেক বেশি। অনেক রকমের আর অনেকক্ষণ ধরে এই সব সিকোয়েন্স আছে।
একটু বিশদে জানতে চাই।
- তা হলে তো গল্প বলে দিতে হয়। খুব ইন্টারেস্টিং বিষয়টা এটুকু বলব। মাঝখানে খবরের কাগজে এবং টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছিল, বিভিন্ন সোনার গয়নার দোকানে চুরি-ডাকাতি হচ্ছিল। সেই ঘটনা নিয়েই রাজ (চক্রবর্তী) ফিকশন তৈরি করেছে।
এর শিকড় কোথায় গিয়ে ছড়াচ্ছে, তাই নিয়েই সিরিজটা।
এবারে পুরো শুটিং কোথায়?
- নৈহাটি, বারাকপুর, আর স্টুডিওর ভিতরে মিলিয়ে মিশিয়ে হয়েছে।
প্রথম সিজনের থেকে কি দ্বিতীয় সিজনে প্রত্যাশা বেশি?
- দেখো, যে কোনও সিজনেরই প্রত্যাশা বেশি থাকে। সেটা যাঁরা দেখবেন তাঁদের ওপর নির্ভর করছে, আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে কিনা।
পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ওপর এত আস্থা, পর পর তাঁর সঙ্গে কাজ করলেন?
- এইরকম চরিত্র তো আমাকে আর কেউ দেয়নি। আমার যতদূর ধারণা, ‘প্রলয়’-এর পরেই কিন্তু আমি ‘শবর’ পেয়েছি। কাজেই আমাকে দিয়ে যে অ্যাকশন হিরো করানো যায় সেটা তো প্রথম রাজই বুঝতে পেরেছে।
'আবার প্রলয় টু' সিরিজে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ছবি- সংগৃহীত
‘হোক কলরব’ নিয়ে যতটা ভাবা হয়েছিল, তেমন আশানুরূপ ভালোবাসা দর্শকের থেকে পায়নি। তার জন্য কি খারাপ লাগা আছে?
- ‘হোক কলরব’ অন্যরকম বিষয়। সবাই যদি ভেবে ফেলে এটাও ‘প্রলয়’ হবে, তা তো নয়। ‘ক্ষুদিরাম চাকী’ তো আর ‘অনিমেষ দত্ত’ হয়ে উঠতে পারে না। মনে হয় তেমন একটা প্রত্যাশা মানুষের ছিল। যে এই লোকটাই শেষে গিয়ে সব করে ফেলবে। ঘটনাটা যেটা বুঝতে হবে, স্টুডেন্টদের নিয়ে ছবিটা। ইয়াং ক্রাউডের হয়তো আরও বেশি আশা ছিল যে ‘ক্ষুদিরাম চাকী’, সে-ই ‘অনিমেষ দত্ত’ হয়ে উঠবে। কিন্তু দেখবে এই ছবিটা নিয়ে পরে কথা হবে।
‘মন মানে না’ দেখা হল?
- হ্যাঁ, আমি প্রিমিয়ারেই দেখেছি। আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।
হিয়াকে কিছু বললেন দেখার পর?
- সে তো আমার আর হিয়ার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেটা আমি সকলকে কেন বলব (হাসি)।
আগেও আপনি বলেছিলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য ছবি হচ্ছে না। এবারে হল। তবু সেভাবে দর্শক হলমুখী হচ্ছে না।
- ইয়াং জেনারেশন এখন রিলে মজে আছে। ওদের আবার রিল থেকে রিয়্যালে ফেরাতে হবে। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে ডেফিনিটলি।
কী মনে হয়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে বলে কি হিয়ার লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে গেল?
- সেটা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের ছেলেরও ছিল। এটা নিয়ে ভাবি না। ভেবে কোনও লাভ নেই।
"পর পর কত কাজ করব! আমি একটু কাজ কমানোর চেষ্টা করছি। নিজস্ব কিছুটা সময় পাব কাজে কমাতে পারলে। বেড়াতে যাব এদিক-সেদিক।"
শাশ্বত-মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা হওয়াটা কি হিয়াকে একটু সুবিধেও করে দেয়নি? কিছু মানুষের মনে এই প্রশ্নটাও থাকবে।
- কী সুবিধে দিয়েছে! যা করার ও নিজে থেকে করেছে, অ্যাক্টিং ক্লাস করেছে। নিজে থেকে পোর্টফোলিও বানিয়েছে, জমা দিয়েছে।তাতে আমার কোনও অবদান নেই।
ইদানীংকালে ঘটনাচক্রে কয়েকটা বিতর্কিত কারণে আপনি আলোচনায় এসেছেন। সেটা নিয়ে কি একটু বিরক্ত লাগে?
- কিছু লোকের তেমন স্বভাবই আছে বিতর্ক নিয়ে কথা বলা।
হিন্দিতে আর কিছু করছেন?
- একটা করাই আছে, অজয় দেবগণ প্রোডাকশনের ছবি। ‘রেঞ্জার’ ছবিটা, লাভ রঞ্জনের পরিচালনা। কবে আসবে জানি না।
আর দক্ষিণের কোনও ছবি করছেন?
- না বাবা, এমনিই ভয় লাগে। ওই ভাষাটা আবার আয়ত্ত করো! এখনও অবধি আর প্রস্তাব আসেনি, থ্যাঙ্ক গড (হাসি)।
'আবার প্রলয় টু' সিরিজে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ছবি- সংগৃহীত
‘আবার প্রলয় টু’-এর পর কী?
- আর কী! পর পর কত কাজ করব! আমি একটু কাজ কমানোর চেষ্টা করছি। নিজস্ব কিছুটা সময় পাব কাজে কমাতে পারলে। বেড়াতে যাব এদিক-সেদিক। সারা জীবন পর পর কাজ করব নাকি (হাসি)।
ইন্ডাস্ট্রিতে যেটা এখন মাঝে মাঝেই দেখা যায়, সামনে সব ভালো পিঠচাপড়ানি, কিন্তু পিছনে বিরুদ্ধাচারণ। কী বলবেন?
- পিছনে কে, কী বলছে? তাই নিয়ে আমি কেন বদার্ড হব! আমি তো সেগুলো জানতেও পারি না। যার যেমনভাবে সময় কাটাতে ভালো লাগে কাটাক না।
সাম্প্রতিককালে বারবার ইন্ডাস্ট্রির কোন্দল সামনে চলে এসেছে। কী বলবেন সিনিয়র শিল্পী হিসাবে?
- না না, যে কোনও সংসারেই কোন্দল থাকে। বিশেষত, ইন্ডাস্ট্রি তো একটা যৌথ পরিবারের মতো। জয়েন্ট ফ্যামিলিতে কোন্দল বেশি থাকে।
