'জন গণ মন' নাকি 'বন্দে মাতরম', কোনটা জাতীয় সঙ্গীত হওয়া উচিত? এই বিতর্ক কিন্তু, অব্যাহত। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মুকেশ 'জন গণ মন'-এর পরিবর্তে 'বন্দে মাতরম'কে জাতীয় সঙ্গীত করার দাবি করেন। এরপরই দানা বাঁধে বিতর্ক। একই ইস্যুতে ফের সরব অভিনেতা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আরও একবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন 'শক্তিমান' মুকেশ খান্না।
'শক্তিমান' ও 'মহাভারত'-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক খ্যাত মুকেশের বক্তব্য, 'জন গণ মন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী রানি এলিজাবেথের প্রশংসা করে লিখেছিলেন। তিন বছর আগেই 'বন্দে মাতরম'কে জাতীয় সঙ্গীতের স্বীকৃতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে বিনা কারণে বন্দে মাতরম্ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মুকেশের কথায়, "বন্দে মাতরম্ নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। জন গণ মন নিয়ে আমার মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু আমি আবারও বলছি, এটি জাতীয় সঙ্গীত হতে পারে না। কারণ ব্রিটিশ আমলে লেখা হয়েছিল, যখন পঞ্চম জর্জ ছিলেন। ভারত সেসময় ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। জন গণ মন অধিনায়ক শব্দগুলি সেই শাসকের উদ্দেশে এবং তাঁকেই ভারতের ভাগ্য নির্ধারণকারী হিসেবে বর্ণনা করে। কিন্তু, বন্দে মাতরম্ গান মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গভীর প্রতিফলন। তাই আমি আমার মন্তব্যেই অনড়। মাতৃভূমির প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসায় ভরপুর বন্দে মাতরমকেই জাতীয়স্তরে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা বহু বছর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিলাম। স্বাধীনতার পরেও আমরা পাশ্চাত্য শিক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে চলেছি। অথচ ভারতের নিজস্ব শিক্ষা ও ঐতিহ্য সবই রয়েছে।"
'শক্তিমান' মুকেশ
সাম্প্রতিকালের এক সাক্ষাৎকারে ‘বন্দে মাতরম’-এর সঙ্গে ব্যক্তিগত আবেগের কথাও শেয়ার করেন মুকেশ। প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া গানটির প্রশংসা করে বলেন, সুরকার জুটি কল্যাণজি-আনন্দজির সঙ্গেও এবিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। আরও জানান, ‘বন্দে মাতরম’ এর সাত মিনিটের একটি সংস্করণ রেকর্ড করেছেন। যা ভবিষ্যতে বিশেষ জায়গা করে নেবে বলেও আশাবাদী অভিনেতা।
