বলিউড থেকে টলিউড তাঁর কণ্ঠের জাদুতে বিভোর। হাসি-কান্না থেকে রোম্যান্স, বিচ্ছেদ শ্রোতা-অনুরাগীদের সব অনুভূতির সঙ্গী শ্রেয়া ঘোষাল। আর সেই 'প্লেব্যাক সম্রাজ্ঞী'ই সম্প্রতি সিনেমায় গান গাওয়া নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শ্রেয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, 'চিকনি চামেলি'র মতো চটুল লিরিকসের গান আর তিনি গাইবেন না। গায়িকার এহেন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনারও অন্ত নেই! তবে এবার ফিল্মি দুনিয়ার 'রাউঞ্চি' গানকে আলবিদা জানানোর পাশাপাশি লাইভ কনসার্টে শিল্পীদের বদভ্যাস নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করলেন শ্রেয়া ঘোষাল।
"একজন শিল্পী হিসেবে আমারও কিছু দায়বদ্ধতা, নীতি রয়েছে। আমার কোনও গানের ক্ষেত্রেও যদি এটা ঘটে, তাহলে আমি নিজেও সেটা শুনতে পারব না। আমার কাছে বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক। শ্রোতাদের ভালোবাসায় শিল্পীরা যে সিংহাসন আর মুকুট অর্জন করেছেন, সেটাকে মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়।..."
বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাইভ শো করতে গিয়ে শিল্পীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কোথাও শিল্পীদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে আবার কোথাও বা ভক্তদের তাণ্ডবে তিতিবিরক্ত হয়ে শিল্পীরা নিজেরাই মঞ্চ ছেড়ে নেমে গিয়েছেন। এমন আবহে শ্রেয়া কী বলছেন? কৌতূহল অস্বাভাবিক নয়! তবে হেনস্তা নয়, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত গায়িকা বরং মুখ খুললেন শিল্পীদেরই বদভ্যাস নিয়ে। কীরকম? আসলে শিল্পীদের লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগ করতেই কনসার্টে যোগ দেন হাজার হাজার শ্রোতা। কিন্তু বেশ কিছু শিল্পীরা অবশ্য অন্য পন্থায় হাঁটেন। মঞ্চে কণ্ঠ ছাড়ার পরিবর্তে 'লিপ সিঙ্ক' করেন তাঁরা। ফলত, অনেকসময়ে লাইভ শোয়ের মজাটাই মাটি হয়ে যায়। সাম্প্রতিককালে কপিল শর্মার শোয়ে 'লিপ সিঙ্ক' করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এপি ধিল্লোঁ। শ্রোতা-অনুরাগীরাও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আপত্তি তুলে সমালোচনায় সরব হন। তাঁদের সুরে সুর মিলিয়েই এবার বিস্ফোরক শ্রেয়া ঘোষাল।
শ্রেয়া ঘোষাল। ছবি- সংগৃহীত
শিল্পীদের এহেন 'শর্টকাট সংস্কৃতি'কে 'অলসতা'র আখ্যা দিয়ে বলিউডের এক পডকাস্টে শ্রেয়া জানান, "এটা তো অলসতার পরিচয়। তাহলে সেই শিল্পী কঠোর পরিশ্রম করেন না। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, এই ধরনের পন্থা অবলম্বন করা মোটেও ঠিক নয়।" এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। 'প্লেব্যাক সম্রাজ্ঞী'র সংযোজন, "শ্রোতা-দর্শকরা যেটা পছন্দ করেন, আমি সেটা অস্বীকার করতে পারি না। একজন শিল্পী হিসেবে আমারও কিছু দায়বদ্ধতা, নীতি রয়েছে। আমার নিজের কোনও গানের ক্ষেত্রেও যদি এটা ঘটে, তাহলে আমি নিজেও সেটা শুনতে পারব না। আমার কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক। কোনও কনসার্টে শিল্পীর লাইভ পরিবেশনা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে তাঁর অস্বস্তি বোধ করা উচিত। সেই শিল্পীর উচিত কঠোর পরিশ্রম করা। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। কারণ শ্রোতাদের ভালোবাসায় সেই শিল্পী যে সিংহাসন আর মুকুট অর্জন করেছেন, সেটাকে মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়।" শ্রেয়ার এহেন মন্তব্যে সিনেদুনিয়ার অনেকেই সায় দিয়েছেন।
