সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা ও মৃত্যুর প্রতিবাদের সরব হয়েছেন রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদের একাংশ। এমনকী, মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে খোলা চিঠিও দিয়েছেন অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো ব্যক্তিত্বরা। বুধবার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে সেই খোলা চিঠির বিরোধিতা করে পালটা দিলেন কবীর সুমন, যোগেন চৌধুরী, হরনাথ চক্রবর্তীরা। তাঁদের কথায় উঠে এল রাজ্য সরকারের ভাল কাজের খতিয়ান। কবীর সুমনের বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্য সরকারের প্রাণীমৈত্রী, প্রাণীবন্ধু প্রকল্পের কথা। তিনি আরও বলেন, ”বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। কলকাতা শহরের যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, তা নজরে পড়ে? আগে তো অনেক রাস্তায় হাঁটতে হত, নাকে রুমাল চাপা দিয়ে। এখন তো সে অবস্থা নেই। ইতিবাচক দিক গুলোও তো দেখা উচিত। রাজ্য তো কাজও হচ্ছে, শুধু কি আর মারামারি কাটাকাটি হচ্ছে?”
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন কবীর সুমন, আবুল বাশার, যোগেন চৌধুরীরা। তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে পাশে থাকার বার্তা দেন তাঁরা। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা আরও বলেন, ‘ভোটে তো গোলমাল হবেই, ভোট হয়ে যায় না, করাতে হয়। নল দিয়ে ভোট হয়, যেদিন থেকে বোধবুদ্ধি, সেদিন থেকেই দেখছি।’তৃণমূলকর্মীরা সবচেয়ে বেশি মারা গেছে।’ শাসকের সুরেই ব্যাখ্যা কবীর সুমনের।বলতেই পারেন এই পরিবর্তন চাইনি, কিন্তু কী চেয়েছিলেন? আমি চাই ৩ হাজার বছর মমতা ক্ষমতায় থাকুন।’ অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনদের পালটা জবাব কবীর সুমনের।
[আরও পড়ুন: হাতে ২ কোটির হিরের আংটি, বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ রত্ন! কে দিলেন? মুখ খুললেন তামান্না ভাটিয়া]
প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার প্রতিবাদে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী-পরিচালক অপর্ণা সেন। যেভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাস হয়েছে তার তীব্র নিন্দা করলেন অপর্ণা। সম্প্রতি মহাবোধি সোসাইটি হলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে স্পষ্ট অপর্ণা জানিয়েছিলেন, ‘এ রাজ্যে পরিবর্তন দরকার ছিল। কিন্তু তাঁর বদলে এমন ঘটবে তা চাওয়া হয়নি।’ শুধু তাই নয়, ভোট সন্ত্রাসের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কাছে খোলা চিঠি দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
চিঠিতে অপর্ণা সেন উল্লেখ করেছেন, ‘আপনি অবগত আছেন যে ৮ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত গত ৩৭ দিনে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৫২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এবং বহু মানুষ নিখোঁজ। আপনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব অস্বীকার না করেও, এই কথা অবশ্যই বলা যায় যে এই পঞ্চায়েত নির্বাচন কেন্দ্রিক হত্যালীলা, এবং অরাজকতার দায়িত্ব মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এবং আপনার।’
এদিন অপর্ণা , ”বাংলার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ’ বলেও ব্যাখা করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমার বলার মতো কিছুই নেই। সকলের মতো আমিও নিরুপায় হয়ে দেখছি। কিছু বলেও তো লাভ হচ্ছে না! সেই সময় পরিবর্তনের ডাক দেওয়া ভুল ছিল না, দরকার ছিল। তখন বামেরা যা করছিল, অত্যন্ত অন্যায় করছিল। হার্মাদ বাহিনী গ্রামে গ্রামে ভোট দিতে দিতে না। আমরা দেখেছি। সেগুলো ভুলিনি। কিন্তু এটা চাইনি।”
