shono
Advertisement
Singer Silajit Majumder

'রুদ্রনীল, তোর নমস্কার করা হোর্ডিং দেখলে...', তৃণমূলের পোস্টার সংস্কৃতি নিয়ে বিস্ফোরক শিলাজিৎ

রাজ্যে পনেরো বছরের সবুজ দূর্গ ধসে পদ্ম ফুটতেই গত ৪মে গেরুয়া জামা পরে ইঙ্গিতবাহী পোস্ট করেছিলেন। এবার নন্দনে বিজেপির দুই তারকা বিধায়ক রূপা-রুদ্রনীলের পাশে বসে তৃণমূলের পোস্টার সংস্কৃতি নিয়ে সরব শিলাজিৎ। কী বললেন শিবপুরের বিধায়ক?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 03:08 PM May 18, 2026Updated: 03:36 PM May 18, 2026

নন্দন, বাংলা ও সিনেপ্রেমী বাঙালিদের এক চারণক্ষেত্র। সিনেসংস্কৃতির সেই প্রাণকেন্দ্রে কেন সারি দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পোস্টার শোভা পাবে? প্রশ্ন তুলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিলেন পরিচালক অনীক দত্ত। ২০১৮ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সময় যে পোস্টার বিতর্ক ঘিরে কম জলঘোলা হয়নি সিনেদুনিয়া থেকে রাজনৈতিকমহলের অন্দরে। যার জেরে পরের বছর উনিশ সালে 'ভবিষ্যতের ভূত'কে মুক্তির আলো দেখাতে গিয়ে বেগ পেতে হয় অনীক দত্তকে! কাট টু ছাব্বিশ সালের মে মাস। সরকারি প্রেক্ষাগৃহ নন্দনে বসে সেপ্রসঙ্গ টেনেই বিস্ফোরক শিলাজিৎ।

Advertisement

রাজ্যে পনেরো বছরের সবুজ দূর্গ ধসে পদ্ম ফুটতেই গত ৪মে গেরুয়া জামা পরে ইঙ্গিতবাহী পোস্ট করেছিলেন। এবার নন্দনে বিজেপির দুই তারকা বিধায়ক রূপা-রুদ্রনীলের পাশে বসে তৃণমূলের পোস্টার সংস্কৃতি নিয়ে শিলাজিতের মন্তব্য, "বাইপাসের উপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওকে দেখতে দেখতে আমার অসহ্য লাগত।..." 

রাজ্য-রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে টলিউডেও জাঁকিয়ে বসেছে পরিবর্তনের ট্রেন্ড। এমতাবস্থায় বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রিতে প্রাক্তন সরকারের ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগ তুলে অনেকেই সরব হয়েছেন 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর বিরুদ্ধে। রবিবাসরীয় দুপুরে নন্দনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিলাজিৎ সুর চড়ালেন তৃণমূলের পোস্টার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। অনীক দত্তের মতো তিনিও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, নন্দনে কিংবা কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানে এত নেতা-মন্ত্রীদের পোস্টার-হোর্ডিংয়ের দাপট কেন? এদিন 'প্রত্যাবর্তন' এবং 'দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস'-এর শিল্পীরা যৌথভাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন। যেখানে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিলাজিৎও। সেখানেই রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে বিশেষ আর্জি রাখলেন গায়ক। শিলাজিৎ (Singer Silajit Majumder) বরাবরই স্পষ্টভাষী। কাউকে রেয়াত করেন না। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।

নন্দনে সাংবাদিক বৈঠকে শিলাজিৎ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ। নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যে পনেরো বছরের সবুজ দূর্গ ধসে পদ্ম ফুটতেই গত ৪মে গেরুয়া জামা পরে ইঙ্গিতবাহী পোস্ট করেছিলেন। এবার নন্দনে বিজেপির দুই তারকা বিধায়ক রূপা-রুদ্রনীলের পাশে বসে তৃণমূলের পোস্টার সংস্কৃতি নিয়ে শিলাজিতের মন্তব্য, "বাইপাসের উপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওকে (কারও নামোল্লেখ করেননি ) দেখতে দেখতে আমার অসহ্য লাগত। আমার বুকে ব্যথা হত। আর প্রতিটা এলাকার কাউন্সিলর, অমুক-তমুক তাদের ছবি। এটা আমি আগেও বলেছিলাম। তার পর থেকে আমাকে আর কেউ এখানে ডাকত না। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও আমাকে ডাকা হত না।"

"প্লিজ তোদের দলকেও বলিস, এগুলো যেন বন্ধ হয়। এই মুখগুলো দেখতে ভালো লাগে না, অসহ্য....." 

পাশেই বসে থাকা রূপা গঙ্গোপাধ্যায় হাসি চেপে না রাখতে পেরে বলেন, "আমি একদিন যেতে যেতে থেমে গিয়ে নেমে গুনেছিলাম। দেখলাম, মোট ৩২টা ছবি।" তৎক্ষণাৎ মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শিলাজিতের মন্তব্য, "প্লিজ তোদের দলকেও বলিস, এগুলো যেন বন্ধ হয়। এই মুখগুলো দেখতে ভালো লাগে না, অসহ্য লাগে!" এরপরই অনুজ রুদ্রনীল ঘোষের নাম নিয়ে রসিকতা করে শিলাজিৎ বলেন, "আমি যদি কোনওদিন তোরও নমস্কার করা হোর্ডিং সারি দিয়ে পর পর দেখতে পাই, আমি কিন্তু তখনও প্রতিবাদ করব।" এপ্রসঙ্গে রুদ্রনীলের মত, "নন্দনের মতো সাংস্কৃতিক পরিসরেও একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু মানুষের অসংখ্য ছবি লাগানো থাকত, অথচ সিনেমাই মুক্তি পেত না।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement