পর্দার খলনায়ক বাস্তব-জীবনে যে কত বড় ‘মসিহা’, তা কোভিডকালেই দেখেছে আসমুদ্রহিমাচল। সেই সোনু সুদ এবার বুক চিতিয়ে দাঁড়ালেন রাস্তার চারপেয়েদের জন্য। পাঞ্জাব সরকারের সাম্প্রতিক এক সারমেয়-নীতি নিয়ে এখন তোলপাড় নেটপাড়া। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের দোহাই দিয়ে জনবহুল এলাকা থেকে রাস্তার কুকুর সরানোর যে সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান নিয়েছেন, তার বিরুদ্ধেই গর্জে উঠলেন সোনু। সোশাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা দিয়ে অভিনেতা স্পষ্ট জানালেন, এই নির্দেশ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।
আসলে, ঘটনার সূত্রপাত পাঞ্জাবে পথকুকুরদের উপদ্রব কমানোর সরকারি অভিযান ঘিরে। সোনুর দাবি, নেটপাড়ায় ঘোরাফেরা করা বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই অবলা জীবগুলোর ওপর চরম অত্যাচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বলাইবাহুল্য, সারমেয়দের প্রতি এই নির্মমতা একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না পর্দার ‘ছেদি সিং’। সোনুর কথায়, ‘‘রাস্তার কুকুররা কিন্তু মানুষের বন্ধু। বহু মানুষ রোজ ওদের খাওয়ান। হ্যাঁ, কামড়ানোর দু-একটি ঘটনা ঘটে ঠিকই, কিন্তু পাড়ার লোক ভালো করেই জানে কোন কুকুরটি হিংস্র। তাই বলে সব কুকুরকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্বিচারে মেরে ফেলা বা ইউথেনেশিয়া (ইচ্ছামৃত্যু) দেওয়া কোনও সমাধান নয়।’’ সোনুর এই আরজিতে গলা মিলিয়েছেন বলিউড তথা পাঞ্জাবি অভিনেত্রি সোনম বাজওয়া। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সোনমের কাতর আবেদন— অবলাদের প্রতি দয়া দেখান, আরও একটু মানবিক হোন। প্রয়োজনে প্রাণী কল্যাণমূলক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করে নির্বীজন ও যথাযথ পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে মানবিক পদক্ষেপ নিন। শুধু সোনু বা সোনম নন, রবিনা ট্যান্ডন, আলিয়া ভাট থেকে শুরু করে রণদীপ হুডার মতো পশুপ্রেমী বলিউড তারকারাও এই ‘সারমেয়-নিধন’ যজ্ঞের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। সোনুর পরামর্শ, কুকুর মারার বদলে সরকার আশ্রয়শিবির তৈরি করুক। আর সাধারণ মানুষ যাতে রাস্তার কুকুরদের দত্তক নিতে পারেন, সেই আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। মজার ছলে বলেছেন, ‘‘কুকুরের গলায় একটা ওড়না বা দোপাট্টা বেঁধে দিন, যাতে সবাই বোঝে ও একা নয়, ওর দেখভালের লোক আছে!’’
তবে শুধু চারপেয়েদের রক্ষার্থেই নয়, ট্রলারদের হাত থেকে আলিয়া ভাটকে বাঁচাতেও ‘ঢাল’ হয়েছেন সোনু। সম্প্রতি ২০২৬ কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই একদল নেটিজেন ট্রোলিং শুরু করেন। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক চিত্রগ্রাহকরা নাকি আলিয়াকে পাত্তাই দেননি! নাম না করে আলিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে সোনু এক্স হ্যান্ডেলে কড়া ভাষায় লিখেছেন, ‘‘আমাদের কেউ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করলে গর্ব হওয়া উচিত, খুঁত খোঁজা নয়।’’ ট্রোলে আসক্ত দুনিয়াকে সোনুর খোঁচা, ‘‘যারা স্বপ্ন বুনতে ব্যস্ত, অন্যকে টেনে নামানোর সময় তাদের থাকে না।’’ অবলা জীব হোক বা সহকর্মী— অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোনুর এই চওড়া বুক কিন্তু ফের মন জয় করে নিল নেটদুনিয়ার।
