সরকারের পালাবদলের পর থেকেই ইম্পায় (EIMPA)জোর চাপানউতোর। শুক্রবার তা বিরাট আকার ধারণ করে। দিনভর যে বা যাঁরা তাঁর সঙ্গে 'অভব্য আচরণ' করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত (Piya Sengupta)। সেইমতো রাতে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তিনি। পালটা আবার বিরোধীপক্ষের প্রযোজকদের মুখ শতদীপ সাহাও আইনের দ্বারস্থ হন। তিনিও রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। এমতাবস্থায় শুক্রবার ইম্পার অফিসে বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। ওই বৈঠকেও তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। ঝামেলার মাঝে ফাইল হাতে বেরিয়ে যান পিয়া। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা ইম্পার সদস্য নন। তাই তাঁদের মিটিংয়ে রাখতে চান না তিনি। পিয়ার দাবি, ক’জন প্রযোজক-পরিচালক বাইরের লোক নিয়ে এসেছেন। পুলিশের সামনে কেউ কেউ তাঁর দিকে তেড়ে এসেছেন বলেও অভিযোগ। পিয়ার প্রশ্ন, “এটা কি কোনও তৃণমূল বা বিজেপি বা সিপিআইএমের পার্টি অফিস যে, বাইরে থেকে লোক এনে হাঙ্গামা করবে?” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বৈঠক থেকে ফাইল হাতে বেরিয়েই থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পিয়া।
এরপরই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। পুলিশের উপস্থিতিতে ফের মিটিং শুরু হয়। যেখানে ধ্বনিভোটে অস্থায়ী সভাপতি পদে রতন সাহার নাম উঠে আসে। তা আবার মানতে অস্বীকার করেন বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পিয়া সেনগুপ্ত ছাড়াও বেশ কয়েকজন ইম্পা সদস্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের দাবি তোলেন। যদিও বিক্ষুব্ধ সদস্যদের তরফে সিনেপরিবেশক শতদীপ সাহা দাবি করেছিলেন, “পিয়া সেনগুপ্ত প্রথমে পদত্যাগ করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে হঠাৎই তিনি সুর বদল করেন। আমাদের কাছে ওঁর দুর্নীতির সব প্রমাণ আছে। এবার আমরা সব প্রমাণ পেশ করব। এই কমিটিকে আমরা মানি না। ২২ তারিখ পর্যন্ত আমরা এই কমিটিকে মানব না। কারণ পুরো কমিটিই অবৈধ।” এই অশান্তির মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন পিয়া। কিছুটা সুস্থ হয়ে রাতে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
