গোলপার্কের পঞ্চাননতলায় সংঘর্ষের ঘণ্টাদেড়েক আগে কসবায় একই ইস্যুতে সোনা পাপ্পু ও বাপি হালদারের গোষ্ঠীর মধ্যে ঘটেছিল সংঘর্ষের ঘটনা। এই ব্যাপারে কসবা থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে। এর পরই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিষয়টি। তবে সোনা পাপ্পু-বাবুসোনাদের তরফ থেকে বাপি হালদার ও তার লোকেদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, বাপি হালদার তার এলাকার ব্যক্তি ও মহিলাদের নিয়ে কসবায় এসে ভাঙচুর চালায়। ইতিমধ্যে পঞ্চাননতলা এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শুরু হয়েছে গ্রেপ্তারি। এর মধ্যেই কসবা থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলাটির ভিত্তিতেও নতুন করে শুরু হয়েছে পুলিশের তদন্ত।
এদিকে, পঞ্চাননতলায় গুলি চালানো ও সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার সোনা পাপ্পুর সঙ্গী রাহুল দাস ওরফে বাবুসোনা ও শুভঙ্কর দাস ওরফে শুভকে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। রাতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় বাপি হালদারের এক সঙ্গী চঞ্চল নস্কর ওরফে সোনু। বুধবার ভোররাতে পঞ্চাননতলা রোড থেকে আরও দু’জন রাকেশ বণিক ওরফে কেলে ও রাজীব দাস ওরফে সোনুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৯ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। যদিও এই সংঘর্ষের পিছনে থাকা ‘মূল অভিযুক্ত’ সোনা পাপ্পু ফেসবুক লাইভে আসার পর থেকে তার হদিশ মিলছে না। এই ব্যাপারে এদিন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই ঘটনার পিছনে থাকা প্রত্যেক অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের শুরু থেকেই জানা গিয়েছিল, গত রবিবার পঞ্চাননতলার বাসিন্দাদের পিকনিকে নিয়ে গিয়েছিল বাপি হালদার। ফেরার পথে বিকেল থেকেই কসবায় বাপি হালদারের লোকেরা বাবুসোনাদের দিকে টিটকারি করে। পাল্টা টিটকারিও করা হয় বাবুসোনাদের তরফ থেকে। কসবার বৈকুন্ঠ ঘোষ রোডের বাসিন্দা এক মহিলার অভিযোগ, গত রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ কসবারই বি বি চ্যাটার্জি রোডের একটি অফিসঘরের সামনে বাপি হালদারের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন মহিলা ও ব্যক্তি আসে। তাদের মধ্যে বাপি হালদার ছাড়াও শুভাশিস, অম্পা হালদার, তারক হালদার, চাপদাড়ি বাবু, ভিকি বিশ্বাস, তানিয়া, ট্যারা দীপক, রাহুল, বুবাই দেব, তিননাথ, কালু হালদার, সোনু আরও প্রায় ২০ জন ছিল। তারা অস্ত্র নিয়ে ওই এলাকার বাসিন্দাদের উপর হামলা চালায়। ফুটপাথের উপর রাখা টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর করে তারা। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে পঞ্চাননতলায় নিজেদের এলাকায় চলে যায়। এর পরই সোনা পাপ্পুর নির্দেশে বাবুসোনা তার লোকেদের নিয়ে পঞ্চাননতলায় হামলা চালায়। ততক্ষণে বাপি হালদারের সঙ্গী সাট্টা সঞ্জু তার লোকেদের নিয়ে ওই এলাকায় প্রতিরোধ তৈরি করে। তারই জেরে দু’পক্ষই একে অন্যের দিকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
