অনীক দত্তর প্রয়াণের (Anik Dutta Death)পর সংবাদ প্রতিদিন-এর জন্য কলম ধরেন বন্ধু পর্ণালী ধর চৌধুরি। পেশায় বিজ্ঞানী। কর্মসূত্রে থাকেন জোহানেসবার্গে। সেখান থেকেই 'অনীকদা'র স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রয়াত পরিচালকের বায়োগ্রাফি লেখার ইচ্ছেপ্রকাশ করেন পর্ণালী। সেখবর ছড়িয়ে পড়তেই গত চব্বিশ ঘণ্টায় টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ায় ফিসফাসের অন্ত নেই! একাংশের প্রশ্ন, তিনি কি আদৌ অনীক দত্তর শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন? এমনকী নেটভুবনের আতশকাচে এমন 'তত্ত্ব'ও উঠে এসেছে যে, শেষের দিকে অনীক দত্তকে নাকি 'ব্লক' করে দিয়েছিলেন তাঁর বিজ্ঞানী বন্ধু! এমন আবহেই আবার শ্রীলেখা মিত্র, পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিশানায় পর্ণালী ধর চৌধুরি।
"উনি এখন অনীকদাকে আরও খানিকটা ভাঙিয়ে যতটুকু সেলেব হওয়া যায় তার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। আর মুখ খুললাম না।..."
সংবাদ প্রতিদিন-এর খবর ভাগ করে নিয়ে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই তোপ দেগেছেন পর্ণালীর উদ্দেশ্যে। তাঁর মন্তব্য, "ন্যাকা এবং ফেক! আপাদমস্তক। সবাই এটা মনে করলেও মুখে কথাটা ব্লান্টলি বলে খারাপ হব একমাত্র আমি। তাতে আমার কিস্যু এসে যায় না। কারণ অনীকদা চলে গেলেন। উনি এখন অনীকদাকে আরও খানিকটা ভাঙিয়ে যতটুকু সেলেব হওয়া যায় তার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। আর মুখ খুললাম না।" পরমার মন্তব্যে সায় দিয়ে শ্রীলেখাও পর্ণালীর উদ্দেশে কটাক্ষবাণ ছুড়েছেন। অভিনেত্রীর মন্তব্য, "চোখে পড়েছিল আগেই আর এড়িয়ে যেতে পারলাম না। পরমা ঠিক লিখেছেন। এই বিজ্ঞানী মহিলা নাকি অনীকদার শেষজীবনে বন্ধু ভাব দেখিয়ে সেলিব্রিটি কনট্যাক্টস বানিয়ে এখন নাকি আবার অনীকদার উপর বই লিখবেন! পর্ণালী আপনি অনীকদার সাথে ঘুরে পরিচিতি বাড়িয়েছেন, তারপর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাঁকে ব্লক করেছিলেন। সেটা আমরা অনেকেই জানি। আজ ওঁর প্রতি দরদ উথলে উঠল?"
অনীক দত্ত এবং পর্ণালী ধর চৌধুরি।
"এরকম অনেকেই আসে আমাদের জীবনে যাঁরা আমাদের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন, পরিচিতি বাড়ান সুযোগ সুবিধে নেওয়ার জন্য। পরজীবী..."
অভিনেত্রীর সংযোজন, "আপনিও ওঁর মানসিক ক্ষতি করেছেন। তাছাড়া আপনি কি জানেন ওঁর ব্যাপারে যে আপনি বায়োগ্রাফি লিখবেন? এরকম অনেকেই আসে আমাদের জীবনে যাঁরা আমাদের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন, পরিচিতি বাড়ান সুযোগ সুবিধে নেওয়ার জন্য। পরজীবী একপ্রকার!" এখানেই অবশ্য থামেননি শ্রীলেখা। অনীক দত্ত যে শ্রীলেখা মিত্রর কাছে অভিভাবকসম, সেকথা ঘনিষ্ঠরা সকলেই জানেন। পরিচালকের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক। সেই সূত্রেই প্রয়াত পরিচালকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নিন্দুকদের তোপ দেগে শ্রীলেখার সংযোজন, "না জেনে টুলুদিকে ট্রোল করা বন্ধ করুন। অনীকদার মতো একটা বড় বাচ্চাকে সামলেছিলেন বলেই অনীকদা কাজ করতে পেরেছিলেন।"
গত তিন দিনে এমন গুঞ্জনও চাউড় হয়েছে, যেখানে অনীকের অবসাদ কিংবা মৃত্যুর জন্য কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে তাঁর স্ত্রী সন্ধিকে। শোনা গিয়েছিল, শেষমুহূর্তে পরিচালকের সঙ্গে নাকি দেখা করতে চাননি তিনি! যদিও এহেন গুঞ্জন তত্ত্ব নস্যাৎ করেছে অনীকের আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ। যেখানে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, পরিচালক একাই ছাদে উঠেছিলেন। স্ত্রী ফ্ল্যাটে ঢোকার চেষ্টাও করেননি। নিন্দুকদের সেকথাই মনে করিয়ে দিলেন শ্রীলেখা মিত্র। এদিকে শ্রীলেখার পোস্টের মন্তব্য বাক্সে এমন দাবিও উঠেছে যে, 'শেষ কটা দিন পর্ণার ফোনের অপেক্ষায় নাকি পাগলের মতো ছটফট করেছেন অনীক দত্ত! এমনকী জন্মদিনেও ঘন ঘন মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখেছিলেন একটা ফোনের আশায়!' এহেন গুঞ্জন সোশাল পাড়ায় দাবানল গতিতে ছড়িয়ে পড়লেও পালটা 'টুঁ' শব্দটি করেননি পর্ণালী ধর চৌধুরি।
