সাহিত্যের পাতা থেকে বড়পর্দায়। কলম বনাম তলোয়ারের লড়াই নিয়ে ছাব্বিশ সালের পুজোর পর্দায় আসছে 'এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র' (Emperor vs Sarat Chandra)। বৃহস্পতিবার টিজারে মিলল এমন এক সময়ের ঝলক, যেখানে সাহিত্য, রাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা একসূত্রে বাঁধা।
ছবিটি নিয়ে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় বলেন, "আমার কাছে ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ হল এমন এক চিরন্তন গল্প, যেখানে আন্ডারডগ হল কলম আর তার প্রতিপক্ষ অত্যাচারী তলোয়ার। বাস্তব এবং সাহিত্যের দুই পরিসরেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল সময়ের কথাই এই ছবি বলে।" ‘পথের দাবী’-র শতবর্ষের প্রাক্কালে 'এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ফিরে দেখছে বাংলা সাহিত্যের এমন এক অধ্যায়কে, যেখানে শব্দ শুধু সাহিত্য ছিল না— ছিল প্রতিবাদের ভাষা। কিছু সৃষ্টি-সাহিত্য বরাবরই সময়ের দলিল। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ ঠিক তেমনই এক সৃষ্টি, যা প্রকাশের পর ব্রিটিশ শাসকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। প্রায় একশো বছর বাদে সেই ইতিহাস, সেই দ্রোহকালের প্রেক্ষাপটই এবার বড় পর্দায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চলেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তারই ঝলক দেখিয়ে কৌতূহলের পারদ চড়ালেন পরিচালক। টিজারের শুরুতেই টোটা রায়চৌধুরীকে দেখা গেল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বেশে। পাক ধরা চুল। ভাঙা চোয়াল। একমনে লেখালেখিতে ব্যস্ত অভিনেতা। অন্যদিকে আবির চট্টোপাধ্যায়কে দেখা গেল, বন্দুকধারী ‘সব্যসাচী’ বেশে। বিশেষ চরিত্রে নজর কাড়লেন মিমি চক্রবর্তীও।
'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'র ঝলকে টোটা-আবির।
আবির চট্টোপাধ্যায়, টোটা রায়চৌধুরী, মিমি চক্রবর্তী ব্যতীত প্রদীপ কুমার নন্দী প্রযোজিত এবং নন্দী মুভিজ-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন দিব্যাণী মণ্ডল, ঋক চট্টোপাধ্যায়, দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, সঞ্জয় নাগ, কৌশানী মুখোপাধ্যায় এবং কাঞ্চন মল্লিক। এই ছবির হাত ধরেই পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় পা রাখছেন মিউজিক কম্পোজার হিসেবেও। ছবির সঙ্গীত ও সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। ছবির চিত্রগ্রহণে ইন্দ্রনাথ মারিক, যাঁর ক্যামেরায় ফুটে উঠেছে ছবির সময়কাল, পরিবেশ এবং বৃহৎ ক্যানভাস। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল দিক হল মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডুর কাজ। ঐতিহাসিক চরিত্র এবং সাহিত্যের পরিচিত চরিত্রগুলিকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে সময়কাল, লুক এবং চরিত্রের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে তাঁর মেকআপের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯২৬ সালে ঠিক যেসময়ে প্রকাশিত হয়েছিল ‘পথের দাবী’, সেসময়ে কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচীকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। শোনা যায়, তৎকালীন এক দাপুটে বিপ্লবীর আদলে এই চরিত্র চিত্রায়ণ করেছিলেন শরৎচন্দ্র। যে কিনা ব্রিটিশের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই সেসময়ে একের পর এক বিপ্লবী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। অথচ, তার নাগাল পেতে ব্যর্থ হয় ইংরেজরা। সেই ঐতিহাসিক দ্রোহকালই ফুটে উঠবে ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিতে। ঝলকেই সৃজিত জানিয়ে দিলেন যে, শরৎচন্দ্র-সব্যসাচীকে নিয়ে পুজোয় আসছেন তিনি। শরৎচন্দ্র ব্যাতীত এই ছবিতে দেখা যাবে তৎকালীন আরও বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে ঘিরেই এগোবে কাহিনি। এবার পুজোর পর্দায় ‘সব্যসাচী’ আবির চট্টোপাধ্যায়ের বিপ্লবী কর্মকাণ্ড দেখার পালা।
