shono
Advertisement
Rachana Banerjee

'১৫ বছর আগে কোনও রাজনৈতিক দল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাত না', রচনার গলায় উলটো সুর!

যে দলের হাত ধরে রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরুয়াত, বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাঁদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সমালোচনা করতেও পিছপা হননি তিনি। এতদিন কেন ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে সরব হননি? 'ডিগবাজি' খেয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক মন্তব্য!
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:35 PM May 08, 2026Updated: 07:03 PM May 08, 2026

বদলের বাংলায় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে 'ডিগবাজি'র সংখ্যা! রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে গত ছিয়ানব্বই ঘণ্টায় নেটভুবনের আতশকাচে এহেন বহু গুনীজনের মন্তব্য ধরা পড়েছে, যা নিয়ে সরগরম ওয়াকিবহালমহল। এমন আবহে চর্চায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। টালিগঞ্জ স্টুডি পাড়ার কাজের সংস্কৃতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের তারকা সাংসদের।

Advertisement

ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে হুগলি কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন টেলিপাড়ার 'দিদি নম্বর ওয়ান'। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত রচনা। সেই প্রেক্ষিতে বাংলা সিনেদুনিয়ার বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি সিনিয়র অভিনেত্রীও বটে। এতদিন কেন তাহলে ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে সরব হননি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়?

ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল দীর্ঘ পনেরো বছরের রাজপাট গুটিয়ে নিতেই বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সমাহার। গত সোমবার বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয় দেখার পর টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক তারকাই 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'কে নিয়ে '১৮০ ডিগ্রি' ঘুরে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। কারণ বিগত দেড় দশকে একাধিকবার বাংলা সিনেপাড়ায় এমন রব উঠেছে- রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত হোক টলিউড! কখনও বিরোধী শিবির সমর্থক হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কোণঠাসা হওয়ার খবর ছড়িয়েছে, তো কখনও বা আবার ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগে সরব হওয়ায় বিরাগভাজন হতে হয়েছে শিল্পীদের। গত একবছরে বাংলা সিনেপাড়ার 'ব্যান কালচার' নিয়েও কম হইচই হয়নি। এবার বঙ্গে ফুলবদলে বাংলা সিনেদুনিয়ার অন্দরের রাজনীতি নিয়ে কী মত রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের তারকা সাংসদের মন্তব্য, "আমরা এতবছর ধরে অভিনয় করেছি আগে তো এগুলো ছিল না, এটা মানতেই হবে। বিগত ১৫ বছর আগে কোনও রাজনৈতিক দল এসে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাত না। এটাই সত্যি। আমরা নিজেদের মতো কাজ করেছি। ইম্পার প্রেসিডেন্ট, ফোরাম সব একসঙ্গে কাজ করত। সব কটা ফিল্ডের আলাদা আলাদা ফোরাম ছিল। তার মধ্যে একজন 'হেড' থাকতেন, যাঁর তত্ত্বাবধানে সবটা চলত। খুব শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। কোনও দিন এত অশান্ত পরিবেশ টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল না। কিন্তু ইদানিংকালে সেটা হয়েছিল। সেটা অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না।" শুধু তাই নয়! যে দলের হাত ধরে রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরুয়াত, বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাঁদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সমালোচনা করতেও পিছপা হননি তিনি।

চব্বিশ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন রচনা। সেবারই ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে হুগলি কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন টেলিপাড়ার 'দিদি নম্বর ওয়ান'। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত রচনা। সেই প্রেক্ষিতে বাংলা সিনেদুনিয়ার বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি সিনিয়র অভিনেত্রীও বটে। এতদিন কেন তাহলে ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে সরব হননি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? নেত্রী-অভিনেত্রীর মন্তব্য, "যেহেতু সরকার তাদের ছিল আমরা কেউ হয়তো সেঅর্থে খুব জোর গলায় আওয়াজ তুলতে পারিনি।" সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রচনা এও দাবি করে যে, অনেকদিন ধরেই তাঁর মনে হয়েছিল মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করছে না। তিনি জানান, প্রচারে গেলে বহু মানুষ গিয়ে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলে চলে যান, এটা দেখেই তাঁর সন্দেহ হয়েছিল যে মানুষ তাঁকে দেখতে আসছে কিন্তু ভোটবাক্সে তার কোনও প্রতিফলন নেই। হুগলির 'দিদি নম্বর ওয়ান'-এর এহেন 'উলটো সুর' ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় 'ডিগবাজি' খেলেন?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement