একুশ সালে গেরুয়া শিবিরে যোগ। সেসময়ে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে সোহেল দত্তর। কিন্তু মাত্র ২ বছরেই পদ্মে মোহভঙ্গ! তার পর গঙ্গা দিয়ে জল বয়ে গিয়েছে অনেকদূর। প্রাক্তন শাসক দলের একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে অভিনেতাকে। এমনকী 'দিদিতেই শান্তি' বলে মমতা স্তুতিও করেছিলেন। ছাব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে ভোটপ্রচারও করেন। হেঁটেছিলেন মমতার ভবানীপুরের রোড শোতেও। কিন্তু বঙ্গে গেরুয়া ঝড় বইতেই 'ঘর ওয়াপসি' সোহেল দত্তর। শুক্রবার, শাহী ঘোষণায় বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হতেই 'ডিগবাজি' সোহল দত্তর।
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বলেছিলেন, "উনি আমার বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বলে যান, আপনার ছেলের দায়িত্ব আমার। যদিও বাবা-মা বারণ করেছিল। কিন্তু আমি একটা ভুল করে বসি শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাস করে। আমি আসলে বিজেপিতে গিয়েছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে।..."
পঁচিশ সালে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে হাজির ছিলেন সোহেল দত্ত। শিশুশিল্পী হিসেবে সোহেলের পরিচিতি ছিল দর্শকমহলে। ২০২১ সালে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে টলিউডের তারকা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছিলেন এবং ভোটে লড়ছিলেন, সেসময়ে সোহেলও যোগ দেন বিজেপিতে। তবে মাত্র বছর দুয়েকের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয়! সোহেল দাবি করেছিলেন, বিজেপির নীতিগত আর্দশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল। মন থেকে কখনও তাদের নীতি সমর্থন করে উঠতে পারেননি। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বলেছিলেন, "উনি আমার বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বলে যান, আপনার ছেলের দায়িত্ব আমার। যদিও বাবা-মা বারণ করেছিল। কিন্তু আমি একটা ভুল করে বসি শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাস করে। আমি আসলে বিজেপিতে গিয়েছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে। গিয়ে বুঝলাম, বড় ভুল করেছি। ওই দলের নীতিগত আর্দশ কোনও দিনও মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। এছাড়াও ওঁরা শিল্পীদের সম্মান করতে পারেন না।" সেসময়ে সোহেল এও বলেন যা, তৃণমূলে ফিরতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। কিন্তু কাট টু ২০২৬ সালের ৮ মে। অমিত শাহ বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করতেই 'ডিগবাজি' সোহল দত্তর।
পাঁচ দশক পর মসনদে মেদিনীপুরের ছেলে।
ফেসবুকে শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনেতা লিখেছেন, 'পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন! এবং আশা করছি, তিনি বাংলা ও বাংলার সিনেশিল্পের উন্নতিসাধনের জন্য সবকিছু করবেন।' প্রথম পোস্টে বাংলার 'ভাবি মুখ্যমন্ত্রী'র সঙ্গে অতীত ফ্রেম ভাগ করে নিলেও সেই পোস্ট কিছুক্ষণের মধ্যেই দাবানল গতিতে ভাইরাল হওয়ায় 'পাল্টিবাজ' বলে কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয় তাঁকে। সেই প্রেক্ষিতেই হয়তো শুভেন্দুর সঙ্গে শেয়ার করা ছবি সরিয়ে নিয়েছেন সোহেল দত্ত।
