একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বারাকপুরের রোড শোয়ে হাইভোল্টেজ প্রচারে বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর (Raj Chakraborty) পাশে নজর কেড়েছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Ganguly)। ছাব্বিশের নির্বাচনেও সেই চেনা ছবির সাক্ষী থেকেছে বারাকপুরবাসী। 'ব্লকবাস্টার' প্রচারে রাজের পাশে ছিলেন প্রিয়তমা শুভশ্রী। বারাকপুরে রাজ-রাজত্ব ফেরাতেই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন 'লেডি সুপারস্টার'। ভোট প্রচারের ময়দানে তারকা দম্পতিকে ভালোবাসায় মুড়ে রেখেছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু, ব্যালটে ভাগ্য নির্ধারণের শেষবেলায় উলোটপুরাণ!
রাজের রাজপাট হস্তান্তরিত হতেই জুটল চোর চোর স্লোগান, এখানেই শেষ নয় পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল কাদা-জুতোও। তবুও মেজাজ না হারিয়ে নিজেকে সংযত রেখে হাসিমুখে গণনাকেন্দ্র ছেড়েছেন রাজ। রাজনীতির ময়দানে রাজের জন্য যেমন লড়াকু শুভশ্রী ঠিক তেমনই তারকা স্বামীর খারাপ সময়ও তাঁকে ভালোবাসার চাদরে মুড়ে রেখেছেন। ৪ মে বারাকপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত রাজকে চূড়ান্ত অপদস্ত করার পর চুপ ছিলেন শুভশ্রী। চব্বিশ ঘণ্টা পেরনোর আগেই নীরবতা ভাঙলেন রাজ ঘরনি। গলা ফাটিয়ে বা সুর চড়িয়ে নয়, বরং রাজের প্রতি প্রেম নিবেদনই শুভশ্রীর প্রতিবাদের ভাষা।
‘রাজু’ থেকে ‘রাজ’ বহিরাগত হিসেবে টলিউডে পা রেখেই মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার সুবাদে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। তবে সিনেদুনিয়ার বাইরে বছর পাঁচেক ধরে রাজনীতিক হিসেবেও চর্চার শিরোনামে বিরাজ করেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
সোশাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি পারিবারিক মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন। কোনওটায় রাজশ্রীর সম্পর্কের অটুট বন্ধন তো কোনও ছবিতে ইউভান-ইয়ালিনির সঙ্গে 'ড্যাডি কুল' রাজের এক 'নিষ্পাপ' মুহূর্ত। পোস্টের ক্যাপশনে শুভশ্রী লিখেছেন, 'আমাদের সুপারহিরো, আমাদের গর্ব, আমাদের সুপারস্টার, আমাদের শান্তির জায়গা, আমাদের এক টুকরো পৃথিবী।'
বারাকপুরবাসীর তাঁদের 'সুপাহিরো'র থেকে মুখ ফেরালেও স্ত্রী-সন্তানের কাছে রাজ চক্রবর্তী আজও 'সুপারস্টার'। শুভশ্রীর বক্তব্যে তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা ভোটে বারাকপুর কেন্দ্রে জিতে প্রথম বিধায়ক হন রাজ চক্রবর্তী। দলের তরফে দ্বিতীয়বার টিকিট পেয়েই সেই সময় সংবাদ প্রতিদিনকে রাজ চক্রবর্তী বলেছিলেন, "আবার নতুন লড়াই। ৫ বছর নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আমার এলাকার মানুষরা এবারও আমাকে সমর্থন করবেন। পাশে থাকবেন। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে এযাবৎকাল বিধায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দলও খুশি হয়ে আমাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করব।"
‘রাজু’ থেকে ‘রাজ’- বহিরাগত হিসেবে টলিউডে পা রেখেই মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার সুবাদে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। তবে সিনেদুনিয়ার বাইরে বছর পাঁচেক ধরে রাজনীতিক হিসেবেও চর্চার শিরোনামে বিরাজ করেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। আগামীতে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে কী সিদ্ধান্ত নেন তা জানতে নিঃসন্দেহে অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত অনুগামীরা।
