গত ১০মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থলপতি বিজয়। অভিনেতা থেকে দ্রাবিড়ভূমের মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার এই সফর যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়! এদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেই একের পর এক মাস্টারস্ট্রোকে প্রকৃত অর্থে 'জন নায়াগন' হয়ে উঠেছেন বিজয়। গ্যাস সংকট, নারীক্ষমতায়নে জোড় দেওয়া থেকে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের সোনার আংটি উপহার দুর্নীতি রুখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করেছেন। এবার চেন্নাইতে তিনশো নতুন সরকারি বাসের শুভসূচনা করে জনতার মন জয় করলেন তামিলভূমের সুপারস্টার মুখ্যমন্ত্রী।
সফরকালীন বাসের কর্মীদের সঙ্গে কখনও আড্ডা দেন, আবার কখনও বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে বার্তালাপে ব্যস্ত দেখা যায় তাঁকে। এমনকী সরকারি বাসে উঠে চালক, কন্ডাক্টরের সঙ্গেও কুশল মঙ্গল বিনিময় করতে ভোলেননি বিজয়।
বৃহস্পতিবার চেন্নাইতে সদ্য শুরু হওয়া সরকারি বাসে উঠে বসেন থলপতি বিজয়। নিরাপত্তাবলয় সরিয়ে একেবারে আমজনতার মতোই বাসের আসনে বসে উপভোগ করতে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি বাইরে দাঁড়ানো প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদনও জানান তিনি। পরনে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট। চোখে রোদচমা। সফরকালীন বাসের কর্মীদের সঙ্গে কখনও আড্ডা দেন, আবার কখনও বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে বার্তালাপে ব্যস্ত দেখা যায় তাঁকে। এমনকী সরকারি বাসে উঠে চালক, কন্ডাক্টরের সঙ্গেও কুশল মঙ্গল বিনিময় করতে ভোলেননি বিজয়। আর তামিলভূমের মুখ্যমন্ত্রীর 'জয় রাইড'-এর এহেন টুকরো সব মুহূর্তই আপাতত নেটভুবনে দাবানল গতিতে ভাইরাল। যা দেখে আমজনতাও 'জন নায়াগন' বিজয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
একথা অনস্বীকার্য নয় যে, অতীতে বহু দক্ষিণী তারকাই রাজনীতির ময়দানে ভাগ্য নির্ধারণ করতে নেমেছেন। তবে পয়লাবারে সাফল্য কিন্তু সবার হাতে ধরা দেয়নি। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একা জয়ললিতাই লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছিলেন। সাম্প্রতিক অতীতে ফিরে তাকালে সেই তালিকায় নবতম সংযোজন হতে পারতেন কমল হাসান কিংবা রজনীকান্ত। তবে বিজয়ের মতো ভোটযুদ্ধে শিকে ছিঁড়তে পারেননি কেউই। তবে অতীতে যা শিবাজি গণেশন, এমজিআর (মারুদার গোপালন রামাচন্দ্রণ), এনটিআর (নন্দমুড়ি তারকা রামারাও) কিংবা কমল -রজনীর মতো মেগাস্টাররা পারেননি, একাই সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ইতিহাস গড়েছেন থলপতি বিজয়। চব্বিশের লোকসভা ভোটের সময়েই নিজস্ব দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তামিলভূমের অন্যান্য দলগুলিকে ছাব্বিশের নির্বাচনী ময়দানে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ‘জন নায়াগন’-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে যায় ৪মে। তারপর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্রাবিড়ভূমে একের পর এক পদক্ষেপ করে চমকে দিচ্ছেন। আর সেই প্রেক্ষিতেই সুপারস্টার সতীর্থকে নিয়ে বর্তমানে তামিলভূমের সিনেইন্ডাস্ট্রিতে গর্বের অন্ত নেই।
