গত মে মাসেই বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন থলপতি বিজয়। তবে নির্বাচনী আবহেই স্ত্রী সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গমের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য ভাঙনের খবর প্রকাশ্যে আসে। কারণ গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ভোটপ্রচারের আবহে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন সোনালি। নির্বাচনকালে যা রীতিমতো বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের 'অস্ত্র' হয়ে উঠেছিল। উপরন্তু নানা উৎসব-অনুষ্ঠানে নায়িকা তৃষা কৃষ্ণণের সঙ্গে বিজয়ের ঘনঘন উপস্থিতি, সেই জল্পনার পালে হাওয়া দেয়। তবে এবার খবর, থলপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিভোর্স মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সঙ্গীতা।
সঙ্গীতা সেসময়ে এও দাবি করেন যে, ২০২১ সালেই তিনি এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এরপর একাধিকবার সেই সম্পর্কে ইতি টানার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিজয় তা করেননি। যার ফলে তিনি মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন।
একসঙ্গে বিজয়-তৃষা
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সঙ্গীতা 'স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৪'-এর অধীনে চেঙ্গলপাট্টু আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে ডিভোর্সের নেপথ্যের কারণ হিসেবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন, অবহেলা এবং সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার মতো বিস্ফোরক সব অভিযোগ আনেন তিনি। এবং অভিযোগনামায় বিজয়পত্নী এও উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁদের আড়াই দশকেরও বেশি সময়ের দাম্পত্যে এমন ভাঙন ধরেছে, যা আর জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, সঙ্গীতা সেসময়ে এও দাবি করেন যে, ২০২১ সালেই তিনি এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এরপর একাধিকবার সেই সম্পর্কে ইতি টানার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিজয় তা করেননি। যার ফলে তিনি মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন। এবং ক্রমাগত বিজয়ের সঙ্গে দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে তাঁর। ডিভোর্স মামলায় সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গম এও দাবি করেন যে, বিজয় ক্রমশ পারিবারিক জীবন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। এমনকী মানসিক, শারীরিক ও আর্থিকভাবে পাশে থাকাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পাঁচ মাস বাদে এবার নিজেই ডিভোর্স মামলা প্রত্যাহার করে নিলেন সঙ্গীতা।
পিটিআই সূত্রে খবর, বিজয়পত্নী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যোগ দেন। সেখানেই তিনি মামলাটি আর এগিয়ে না নিয়ে যাওয়ার কারণগুলি আদালতকে জানান।
স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে থলপতি বিজয়, ফাইল ছবি।
গত ১৫ জুন স্থানীয় আদালত মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও তাঁর স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ মামলার শুনানি স্থগিত রেখে ৭ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানির দিনই স্ত্রী সঙ্গীতা বিবাহবিচ্ছেদ মামলা প্রত্যাহার করে নেন, বলে জানা গিয়েছে। পিটিআই সূত্রে খবর, বিজয়পত্নী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যোগ দেন। সেখানেই তিনি মামলাটি আর এগিয়ে না নিয়ে যাওয়ার কারণগুলি আদালতকে জানান। এদিকে খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃষা কৃষ্ণণের জন্য উদ্বিগ্ন ভক্তকুল! কারণ গত দেড় দশক ধরে সিনেপর্দার পাশাপাশি বিজয়-তৃষার ব্যক্তিগত সমীকরণও নজর কেড়েছে। এবার কি তবে সেই সম্পর্কে ইতি টানতে চলেছেন তামিলভূমের মুখ্যমন্ত্রী? উঠেছে প্রশ্ন। অনুরাগীদের কৌতূহল, স্ত্রীর সঙ্গে যদি বিজয় সব মিটমাট করেই নেন, তাহলে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণণের কী হবে?
