বুধবার দুপুরে আচমকাই খবর আসে গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অনীক দত্ত (Anik Dutta)। সঙ্কটজনক অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কথা ছিল, কন্যা ঐশী দত্ত বিদেশ থেকে ফিরলেই বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ অনীক দত্তর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সেইমতো মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও রুদ্রনীল ঘোষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন,পরিচালকের শেষকৃত্যে যেন সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। তবে রাত পোহাতেই পারিবারিক সূত্রে জানা গেল, আজ পরিচালকের শেষকৃত্য হচ্ছে না। বুধবার জানা গিয়েছিল, প্রথমে পরিচালকের মরদেহ নন্দনে ২ ঘণ্টার জন্য রাখা হবে। তবে বৃহস্পতিবার পরিবারের তরফে অনীকের প্রাক্তন স্ত্রী ও মেয়ে রাই যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শুক্রে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। ময়নাতদন্তের পরে পরিচালকের দেহ রাখা হয়েছে ‘পিস ওয়ার্ল্ড’-এ।
সেই বিবৃতি অনুযায়ী, '২৯ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত শায়িত থাকবে নিউ থিয়েটার্স ওয়ান স্টুডিওতে। সেখানেই পরিবারের সদস্য, প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব, শুভকাঙ্খীরা শেষবারের মতো অনীক দত্তকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে পারবেন। যাঁরা অনীক দত্তকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন তাঁরা ওঁর শেষযাত্রায় সঙ্গে থাকবেন।' ২৮ মে লিখিত বার্তায় প্রয়াত পরিচালকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়ে ফিরবেন। তাঁর ইচ্ছা অনুসারেই শুক্রবার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেন্সিক টিম। চারতলা থেকে ফেলা হল ডামি। তদন্ত যে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগচ্ছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
অনীকের জন্য...
এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, নন্দনে প্রয়াত পরিচালককে আদৌ রাখা হবে কি না, তাই নিয়েও নাকি দ্বিমত তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, নন্দনের পরিবর্তে কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের বাড়ির সামনে রাখা হতে পারে অনীক দত্তর মরদেহ। ‘অপরাজিত’ পরিচালক যে শয়নে-স্বপনে সত্যজিৎ যাপন করতেন, সেকথা কারও অজানা নয়। শোকের আবহে অনীক দত্তর রহস্যমৃত্যু ঘিরে মাথাচাড়া দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন! তাঁর গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট।
অনীকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সিনেপাড়া
সেই প্রেক্ষিতেই অনীকের রহস্যমৃত্যুতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। আবাসনের ছাদ থেকেই উদ্ধার হয় পরিচালকের লেখা সুইসাইড নোট। যেটা ‘কোরিওগ্রাফিক আর্ট ম্যাগাজিন ২০০৮’- নামে একটি বইয়ের মধ্যে খামে ভরা ছিল। পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, যে চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে সেটা মেয়ে ঐশী দত্তকে উদ্দেশ্য করে লিখে গিয়েছেন পরিচালক। যদিও সেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দোষারোপ করেননি অনীক দত্ত। নোটে উল্লেখ, “এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী নয়।”
অনীকের রহস্যমৃত্যু
