বছরের গোড়াতেই 'টক্সিক' টিজারে উদ্দাম যৌনতা দেখিয়ে আইনি বিপাকে পড়েন দক্ষিণী সুপারস্টার যশ। পবিত্র গোরস্থানের অন্দরে রতিসুখ, যৌনতায় ভরপুর ঝলকের জেরে কন্নড় সংস্কৃতিকে অপমানের অভিযোগও উঠেছিল 'কেজিএফ' স্টারের বিরুদ্ধে। এমনকী কোনওরকম সতর্কীকরণ ছাড়াই সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে যেভাবে খুল্লমখুল্লা 'টক্সিক' চর্চা হয়েছে, তাতে ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিল কর্ণাটকের মহিলা কমিশন। এবার ফের একবার যশের যৌনতামাখা 'টক্সিক'-এর নয়া ঝলকে বিতর্কের ঝড়।
সমালোচকদের মত, এখানে নারীদের শুধুই ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর তাঁদের দিয়ে এমন সব সংলাপ বলানো হয়েছে, যেন গোটা বিশ্বে যশই একমাত্র পুরুষ, যাঁর সঙ্গ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন নায়িকারা!...
প্রোমোয় নয়নতারা, কিয়ারা আডবানি, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং হুমা কুরেশি, 'টক্সিক'-এর পাঁচ নায়িককেই দেখা গেল।
বুধবার 'টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস'-এর নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন নির্মিতারা। 'লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ' শিরোনামে যে ঝলক উন্মোচিত হয়েছে, সেখানে সিনেমার নারীচরিত্রদের 'মহিমা' তুলে ধরা হয়েছে। প্রোমোয় নয়নতারা, কিয়ারা আডবানি, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং হুমা কুরেশি, 'টক্সিক'-এর পাঁচ নায়িককেই দেখা গেল। তবে যে প্রোমো কিনা সিনেমার নারীচরিত্রদের পরিচয় করানোর জন্যেই তৈরি হয়েছে, সেখানে নায়িকাদেরই স্বল্প দৈর্ঘ্যের উপস্থিতি? প্রশ্ন তুলেছেন দর্শক, অনুরাগীরা। শুধু তাই নয়! আপত্তি উঠেছে, ঝলকে নায়িকাদের উপস্থাপন নিয়েও। সমালোচকদের মত, এখানে নারীদের শুধুই ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর তাঁদের দিয়ে এমন সব সংলাপ বলানো হয়েছে, যেন গোটা বিশ্বে যশই একমাত্র পুরুষ, যাঁর সঙ্গ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন নায়িকারা! আবার একাংশের বিদ্রুপবাণ, 'টিজারের নাম 'লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ', অথচ সব অভিনেত্রীর উপস্থিতি এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে চোখের পলকেই হারিয়ে যায়!' কেউ বা পুরুষদের পালঙ্ক কাঁপানো ঠুনকো দম্ভের খোঁজ পেলেন 'টক্সিক'-এর নয়া ঝলকে। কেউ বা 'অ্যানিম্যাল'-এর সঙ্গে তুলনা টেনে উগ্র-পৌরষের কথা বলেছেন। একাংশের প্রশ্ন, এরকম যৌনগন্ধী ছবি দেখানোর জন্যেই 'ধুরন্ধর'-এর সঙ্গে সম্মুখ সমরে গেলেন না? সবমিলিয়ে 'যৌনগন্ধী' প্রোমোর জেরে বিতর্কের শিরোনামে যশের 'টক্সিক'।
অন্ধকার জগৎ, গ্যাংস্টার গাথা সিনেদুনিয়ার পর্দায় নতুন নয়, তবুও জানুয়ারি মাসে নিজের জন্মদিনে তিন মিনিটের ঝলকে যে খেলা দেখান ‘কেজিএফ’ স্টার যশ, তাতে নেটভুবনময় জোর ‘টক্সিক’ চর্চা হয়। ‘লার্জার দ্যন লাইফ’ ঝলকে বোমাবাজি, গোলাগুলি, বারুদের গন্ধে ম-ম করা গোরস্থানে উদ্দাম যৌনতায় মাততে দেখা যায় দক্ষিণী সুপারস্টারকে। ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর নাম আর টিজারেই তিনি বুঝিয়ে দেন যে এই ‘সর্বনাশী খেলা’ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। ২০২৬ সালের আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে এই অন্ধকার রূপকথা। যে সিনেমার পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। হলিউড স্টাইল অ্যাকশন দৃশ্য ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। গল্পের প্রেক্ষাপট নয়ের দশকের গোয়া। যেখানে মাদকচক্র, অপরাধ আর ক্ষমতার দাপটে সেসময়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে এক নিষ্ঠুর সাম্রাজ্য। কতটা নিষ্ঠুর, কতটা অন্ধকার? জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আগস্ট পর্যন্ত। ছবিটি মূলত কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় তৈরি হলেও মুক্তি পাবে হিন্দি, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালম ভাষায়।
