নিটের প্রশ্নফাঁস বিতর্ক উসকে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই নিয়ে বিস্ফোর দাবি পরিচালক রামগোপাল ভর্মার (Ram Gopal Varma)। তাঁর মতে, নিট পরীক্ষার থেকেও শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক বড় সংকট এআই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে যতই কাজ সহজ হয়ে যাক না কেন এর কুপ্রভাব শিক্ষাব্যবস্থাকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এমনটাই দাবি করেছেন রামগোপাল ভর্মা।
এক্স হ্যান্ডেলে এবিষয়ে নিজের মতামত জানিয়ে একটি লম্বা চওড়া পোস্ট শেয়ার করেছেন। একটা সময় শিক্ষাব্যবস্থা এমন ছিল যখন জ্ঞান সীমিত থাকলেও তাঁদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করত। অর্থ উপার্জনের সঠিক দিশা দেখাত। কিন্তু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ছাত্রসমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
রামগোপালের লেখা পোস্টের বক্তব্য অনুযায়ী, 'সমস্যাটা নিটের নয়, এআইয়ের। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল বা আত্মহত্যার ঘটনায় অনেকে সন্তানহারা হয়েছেন। কেরিয়ারের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু, এআই শিক্ষাব্যবস্থার শিকড়েই পচন ধরাচ্ছে। আজকের দিনে কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না যে আগামী দশ থেকে কুড়ি বছর পর এই পৃথিবী শিশুদের কী শিক্ষা দেব। কারণ এখন তো চিন্তাভাবনা করার প্রবণতা কমে গিয়ে মানুষ এআই নির্ভর হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির প্রভাব এভাবেই প্রকৃত জ্ঞান, ভাবনাগুলোকে চিরতরে মির্মূল করে ফেলছে।'
আরজিভির মতে, 'এখন তথ্যের কোনও অভাব নেই। বরং সত্য, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্ররোচনার স্রোতে মানুষ ভেসে যাচ্ছে। আর এআই মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুত সেই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। একসময় যে ধারণা ছিল কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করলেই নিরাপদ ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত। কিন্তু, এআই সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। নম্বর, ডিগ্রি বা মুখস্থবিদ্যার গুরুত্ব আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে। বরং ভবিষ্যতে সেই ব্যক্তিই সফল হবেন যিনি পরিবর্তনের হাওয়ায় গা ভাসাচ্ছেন। তিনিই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।'
শক্তিশালী উপমা ব্যবহার করে পরিচালকের বক্তব্য, বর্তমান শ্রেণিকক্ষ, সিলেবাস ও ভর্তি পরীক্ষা বাড়ির সেই আসবাবপত্রের মতো যেখানে আগুন লাগার পরও চেয়ার কোথায় রাখা হবে সেটা নিয়ে চিন্তিত। পরিচালকের কথায়, এআইয়ের প্রকৃত ব্যবহার আগে জানা উচিত।
