প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর থেকে গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরে তুঙ্গে সংঘাত। হরিণঘাটার বিজেপি প্রার্থী অসীম সরকারকে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ। প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কাস্টডাঙ্গা বাজারে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এবং প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করাবেন।
অসীম সরকার বিধায়ক। তবে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, গত পাঁচ বছর এলাকায় তাঁকে পাওয়া যায়নি। যাঁদের ভোটে তিনি জিতেছেন তাঁদের কোন উপকার করেননি। অসীম সরকার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজের মতো কাজ করেন বলেও দাবি। শুধু তাই নয়, এইমসে চাকরি দেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীরা। বুধবার তাঁরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এবং প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করাবেন।
অসীম সরকার বলেন, "যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা আমার নয়, মোদিজির বিরোধিতা করছেন। যাঁরা আমাকে হারাবার কথা বলছেন, তাঁরা আমাকে নয়, মোদিজিকে হারাবার কথা বলছেন। তাঁরা কোনওদিন বিজেপিটা করেননি, এটাই তার প্রমাণ।"
যাঁকে নিয়ে এত অশান্তি সেই অসীম সরকারও ঘরোয়া কোন্দলে বিরক্ত। তিনি বলেন, "যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা আমার নয়, মোদিজির বিরোধিতা করছেন। যাঁরা আমাকে হারাবার কথা বলছেন, তাঁরা আমাকে নয়, মোদিজিকে হারাবার কথা বলছেন। তাঁরা কোনওদিন বিজেপিটা করেননি, এটাই তার প্রমাণ। প্রকৃতপক্ষে বিজেপি করলে এভাবে রাস্তায় নেমে বিরোধিতা করে বিরোধীদের অক্সিজেন জোগাতেন না। এবার নির্বাচনটা অন্যরকম হবে। কারণ, এবার বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে বিজেপি।" অসীম সরকারের অভিযোগ, "ভয় পেয়ে তৃণমূল কিছু লোককে পয়সা খাইয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব নিয়ে এত ভাবার কিছু নেই। আমি ভাবি না। কারণ, নির্বাচন নির্বাচনের মতো হবে।" তিনি আশাবাদী, "বিগত দিনে হরিণঘাটার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। এবারও তাই করবেন।"
এই ঘটনায় জেলা তৃণমূল নেতা চঞ্চল দেবনাথ বলেন, "দেরিতে হলেও হরিণঘাটার প্রকৃত বিজেপি কর্মীদের বোধোদয় হয়েছে। তাঁরা সত্যি কথাই বলেছেন। বিগত পাঁচ বছরে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক কবিয়াল অসীম সরকারকে এলাকার মানুষ পাননি। তাঁর মুখের ভাষা ভালো নয়।" বিজেপির অন্দরের এই কোন্দলে আদতে তৃণমূলই লাভবান হবে বলেই মনে করছে ঘাসফুল শিবির। এককথায় ভোটের আগে হরিণঘাটায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ চড়ছে।
