মোহনবাগান ক্লাবের গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে একটু দাঁড়ালেন রাজু মুখোপাধ্যায়। যেন আবেগের স্রোতে ভেসে গেলেন–“কতদিন পর ক্লাবে এলাম।” টাইম মেশিনে চড়ে ফিরে যাচ্ছিলেন অতীতে। মোহনবাগান ক্লাবের (Mohun Bagan) হয়ে খেলার দিনগুলোয়। মনে পড়ে যাচ্ছিল কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কথাগুলো। রাজু তখন বাংলার অধিনায়ক। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল তাঁর। কবি তাঁকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। রাজু ভেবেছিলেন, বাংলা অধিনায়ক হওয়ার জন্য তাঁকে ক্যাপ্টেন বলছেন। কিন্তু শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আরে বাংলার কথা বলছি না। তুমি তো মোহনবাগানের ক্যাপ্টেন। দেখো, দেশ ভাগ হয়েছে। বাংলা ভাগ হয়েছে। কিন্তু মোহনবাগানের কোনও ভাগ নেই।” শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক।
চুনী গোস্বামীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার মোহনবাগানের ক্রিকেট দিবসে এসে সেসব স্মৃতি বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল রাজুর। বলছিলেন, “মোহনবাগান শুধু একটা ক্লাব নয়। এটা আবেগ। ক্লাবের সঙ্গে কত স্মৃতি, কত ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। সারা বিশ্বে এই ক্লাবের সমর্থকরা ছড়িয়ে রয়েছেন।”
মোহনবাগানে ক্রিকেট-আড্ডা। উপস্থিত রাজু মুখোপাধ্যায়, প্রণব রায়, প্রণব নন্দী, ইন্দুভূষণ রায়, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, সৌরাশিস লাহিড়ী, পলাশ নন্দী, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভময় দাস, দেবব্রত দাস, অরিন্দম ঘোষ, রোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জীব গোয়েলরা। বৃহস্পতিবার সবুজ-মেরুন লনে। ছবি: অমিত মৌলিক
শুধু রাজু কেন, একইরকম আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছিলেন প্রায় সকলেই। বৃহস্পতিবার ক্লাবের লন একেবারে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। অতীতের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বর্তমান টিমের ক্রিকেটাররাও উপস্থিত ছিলেন। পলাশ নন্দী, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রণব রায় থেকে শুরু করে দত্তাত্রেয় মুখোপাধ্যায়, ইন্দুভূষণ রায়, সাগরময় সেনশর্মারা প্রত্যেকেই অভিভূত। কেউ কেউ বলছিলেন, “একটা ক্লাবই তো রয়েছে, যারা প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ডেকে এরকম সম্মান দেয়।” রনজি জয়ী বাংলার অধিনায়ক সম্বরণের কথায়, “মোহনবাগান যে সম্মান দিল, সেটা দারুণ। দুর্দান্ত একটা সন্ধে কাটালাম। অনেক পুরনো দিনের লোকের সঙ্গে দেখা হল। পুনর্মিলন যাকে বলে, ঠিক সেটাই হয়েছে। বর্তমান রয়েছে, ভবিষ্যৎও থাকবে। কিন্তু অতীতকে মোহনবাগান ভোলেনি। দারুণ উদ্যোগ।”
বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা আবার যেমন চার-পাঁচ বছর পর ক্লাবে এলেন। মোহনবাগানের অধিনায়ক ছিলেন, ক্লাবকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। মাঝে কয়েক বছর আর সেভাবে ক্লাবে আসা হয়নি। এদিন মোহনবাগানে এসে আপ্লুত বঙ্গ কোচ বলছিলেন, “খুব ভালো আড্ডা হল। মোহনবাগানে কত স্মৃতি রয়েছে।” সৌরাশিস লাহিড়ী, শুভময় দাস, অরিন্দম দাস, দেবব্রত দাস, সঞ্জীব গোয়েল, শৌনক দাসদের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটার ছিলেন। শেষের দিকে আবার এলেন বিশ্বজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটার সৈয়দ কিরমানিও।
