আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন অজিঙ্ক রাহানে। গত তিন বছর ধরে ভারতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘদিন 'বঞ্চিত' হয়ে অবশেষে চোখের জলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন ৩৮ বছর বয়সি ক্রিকেটার। সোশাল মিডিয়ায় আবেগী বার্তায় নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক রাহানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট থেকে অবসরের কথা জানিয়েছেন। নাইট জার্সিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না এখনও সেই প্রশ্ন থাকছে।
ইনস্টাগ্রামের ভিডিও বার্তার ক্যাপশনে রাহানে লিখেছেন, 'টুপি নম্বর ২৭৮ বিদায় জানাচ্ছে। এত বছর ধরে সবার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।' ওই ভিডিওয় রাহানে বলেন, "সময়কে সম্মান করে এগিয়ে যেতে হয়। আমি ব্যাটিংয়ে সবসময় টাইমিংয়ে ভরসা করতাম। আজ আমার মনে হচ্ছে, এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাটকে বিদায় জানাচ্ছি। ডোমভিলির এক ছোট্ট বাচ্চা প্র্যাকটিসের মাঠ থেকে আজ পর্যন্ত ক্রিকেটকে সব কিছু দিয়েছে। সবসময় স্বপ্ন ছিল, ভারতের টুপি পরব। আমি সবসময় নিজের থেকে দেশ ও দলকে এগিয়ে রেখেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি সততার সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি। গত ২০ বছরে ভারতীয় ক্রিকেট অনেক উন্নতি করেছে। আমি তার অংশ হতে পেরে গর্বিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও আমার গল্প শেষ হচ্ছে না। আমি যা শিখেছি, পরের প্রজন্মের উন্নতির চেষ্টা করব। অনেক ম্যাচ হেরেছি, জিতেছি। কিন্তু খেলার প্রতি ভালোবাসা একই আছে। এই স্মৃতিগুলোই আমার সম্পদ। বিসিসিআই, মুম্বই ক্রিকেট সংস্থা, সতীর্থ, কোচ, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আমার স্ত্রী রাধিকাকে ধন্যবাদ জানাই। যাঁরা উত্থানপতনে আমার পাশে ছিলেন, সেই ক্রিকেট ভক্তদের ধন্যবাদ। 'অজিঙ্ক' মানে যে হারে না। কিন্তু ক্রিকেট আমাকে হারতে শিখিয়েছে। জয়ের থেকে বেশি হেরেছি। আমি ভুল করেছি। কিন্তু একটা জায়গায় আমি কখনই জায়গা হারাইনি। সেটা হল আপনাদের হৃদয়।" তারপরই কেঁদে ফেলেন রাহানে।
ভারতের হয়ে রাহানে ৮৫টি টেস্টে ৫০৭৭ রান করেছেন। গড় ৩৮। সেঞ্চুরি সংখ্যা ১২। ওয়ানডেতে ৯০ ম্যাচে ২৯৬২। ৩টি সেঞ্চুরি। তবে শুধু তথ্য-পরিসংখ্যানের নিরিখে রাহানেকে বিচার করা যাবে না। টেস্টের ধ্রুপদী ব্যাটিং ঘরানাকে ধরে রেখেছিলেন। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে রান করতেন। ২০২০ সালে মেলবোর্নে ১১২ রান বা লর্ডসে ২০১৪ সালে ১০৩ রানের ইনিংস কে ভুলতে পারে। তাঁর নেতৃত্বেই ৩৬ অলআউট থেকে কামব্যাক করে বর্ডার গাভাসকর সিরিজ জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। তবে ২০২৩-র পর আর টেস্ট দলে সুযোগ হয়নি। সম্ভবত সেই অভিমানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে রাহানের অবসরের ক্ষেত্রে।
