সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সঞ্জু স্যামসন যে রাজস্থান রয়্যালস ছাড়ছেন, সে নিয়ে আর কোনও জল্পনার জায়গা সম্ভবত রইল না। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জু কার্যত 'বিদায়বার্তা' দিয়ে গেলেন নিজের প্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।
অশ্বিনের পডকাস্ট ‘কুট্টি স্টোরিজে’ নিজের জীবনে রাজস্থানের অবদান নিয়ে বলতে গিয়ে খানিকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সঞ্জু। তিনি বলেন, "রাজস্থান আসলে আমার কাছে গোটা পৃথিবী। কেরলের এক গ্রাম থেকে উঠে আসা একটা ছোট্ট ছেলে নিজের প্রতিভা দেখাতে মরিয়া ছিল। সেই মঞ্চটা আমাকে দিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড় স্যর এবং মনোজ বাদালে স্যর।" আবেগপ্রবণ হয়ে সঞ্জু বললেন, "রাজস্থানই আমাকে সুযোগ দিয়েছে গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়ার যে আমি কী! সব সময় ওরা আমার উপর আস্থা রেখেছিল। এই দলের সদস্য থাকতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।"
সঞ্জুর কথায় শেষের কয়েকটা বাক্য ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি রাজস্থান আর সঞ্জুর উপর আস্থা রাখছে না? আর এভাবে কৃতজ্ঞতা তো মানুষ বিদায়বেলায় জানায়। তাহলে কি সঞ্জুর বিদায় আসন্ন? ২০১৩ সালে সঞ্জুকে সই করায় রাজস্থান। প্রথম দফায় ৩ মরশুম রাজস্থানের হয়ে খেলেন। ২০১৮ সালে তাঁকে আবার কিনে নেয় রাজস্থান। তারপর থেকেই রাজস্থানের মুখ হয়ে উঠেছেন সঞ্জু। ২০২১ সালে তাঁকে অধিনায়ক করা হয়। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০২২ সালে ফাইনালে ওঠে রাজস্থান। ২০২৪ সালেও দলকে প্লে-অফে তোলেন সঞ্জু। কিন্তু গত আইপিএল থেকেই রাজস্থান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সমস্যা শুরু হয় সঞ্জুর।
সাধারণত ওপেন করতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন সঞ্জু। কিন্তু গত মরশুমে যশস্বী জয়সওয়াল এবং বৈভব সূর্যবংশীর ওপেনিং জুটি বেশ সফল হয়। বাধ্য হয়ে ব্যাটিং অর্ডার পালটাতে হয় সঞ্জুকে। এমনকি টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গেও তাঁর মতানৈক্যের খবরও পাওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গে গত মরশুমে চোটের জন্য সবক’টি ম্যাচ খেলেননি। মোট আটটি ম্যাচে সঞ্জুর পরিবর্তে রাজস্থানকে নেতৃত্ব দেন রিয়ান পরাগ। সবমিলিয়ে, রাজস্থান ছাড়ার পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন সঞ্জু।
