সরকারের নির্দেশ মানতে নারাজ আমিনুল ইসলাম বুলবুল। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) কমিটি ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সভাপতি আমিনুলকে সরিয়ে যে নতুন অ্যাডহক কমিটি তৈরি করা হয়েছে, তার মাথায় রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। অনেকে মনে করছেন, তামিমকে বিসিবি'র মাথায় বসানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত। আর আমিনুল বলছেন, তামিমের অ্যাডহক কমিটি 'অসাংবিধানিক ও অবৈধ'। বরং নিজেকেই বৈধ সভাপতি বলে দাবি আমিনুলের।
গত বছর মে মাসে বোর্ড নির্বাচনের পর সভাপতি হন আমিনুল। তখন ছিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারপর বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলেনি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টাও চোখে পড়ছে। এর মধ্যেই নির্বাচনে অস্বচ্ছতা নিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুলবুলের বোর্ড ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তিন মাসের জন্য অ্যাড হক কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ১১ সদস্যের কমিটির মাথায় বসানো হয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেটার তামিমকে।
কিন্তু সরকারের নির্দেশ মানতে নারাজ আমিনুল। তাঁর বক্তব্য, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাড হোক কমিটি সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ এবং তা অবৈধ। এই ধরনের কমিটির কোনও বৈধতা নেই। আইসিসি'র গঠনতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।"
তাঁর আরও বক্তব্য, "আমরা চাই, নির্বাচিত বোর্ড রক্ষার জন্য আইসিসি হস্তক্ষেপ করুক। আইসিসিকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এই অবৈধ সংস্থাকে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই।" এছাড়া যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে লেখা রয়েছে, 'হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।' অর্থাৎ বাংলাদেশ ক্রিকেটের ডামাডোল এখনই থামছে না।
