অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারের পর প্রশ্ন উঠছে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসদের সঙ্গে খেলতে বাধ্য হয় অজিরা? এর নেপথ্যে নাকি বিরাট অঙ্কের আর্থিক চুক্তি ছেড়ে দেওয়া। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন ক্রিকেটার মোটা অঙ্কের চুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। চলতি বছরের মার্চে কামিন্স বলেছিলেন, "আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডে ২০ দিনের জন্য ৫ লক্ষ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় ৬.৪৭ কোটি টাকা) আয়ের সুযোগ ছেড়ে বাংলাদেশ সিরিজের দু'টি টেস্ট খেলতে রাজি হয়েছে।" অর্থাৎ তিনি মনে করছেন, বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব ফিরিয়ে টেস্ট সিরিজকে গুরুত্ব দিয়েছিল তাঁর দল। কিন্তু ডারউইনে হারের পর প্রশ্ন উঠছে, কতটা মন দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে অজি ক্রিকেটাররা?
তবে কামিন্সের মতে, প্রস্তুতিতে কোনও খামতি ছিল না। তাঁর কথায়, "সম্ভবত প্রথম দিনেই আমাদের হাত থেকে ম্যাচটা বেরিয়ে গিয়েছিল। আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট ভালো ছিল। তাই কোনও অজুহাত দিতে চাই না। বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছে।" প্রথম দিনের উইকেটে শুরুতে বোলারদের জন্য কিছুটা সাহায্য ছিল বলেও জানান তিনি। তবে সেই পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। কামিন্সের স্বীকারোক্তি, "আমাদের আরও অনেকক্ষণ ব্যাট করতে হত। আর বল হাতে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতেও পারিনি।"
দ্বিতীয় টেস্টে দলে পরিবর্তন হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নের কোনও সরাসরি উত্তর না দিলেও প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাননি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। তবে এখনই তাড়াহুড়ো করার পক্ষপাতী নন তিনি। কামিন্স বলেন, "প্রতিটি ম্যাচের পরই আমরা দলের ভারসাম্য এবং ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তবে ম্যাচটা সবে শেষ হয়েছে। একটু সময় নিয়ে ভাবতে হবে কোথায় উন্নতি করা যায়। আশা করি, আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।" তবে বাংলাদেশকে দরাজ সার্টিফিকেট দিতে কার্পণ্য দেখাননি কামিন্স। তাঁর কথায়, "ওরা সব দিক থেকেই আমাদের ছাপিয়ে গিয়েছে। ধৈর্যশীল এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা একবার পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরে আসা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল।"
