বড় অঙ্কের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের চাপে রাখতে পারছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তাদের তরফে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কামিন্সকে। অজি বোর্ডের দাবি, দেশের ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদিও তার পরেও সে দেশের ক্রিকেটাররা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আইপিএলের মাঝপথে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না তাঁরা।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম 'সিডনি মর্নিং হেরাল্ড'-এর দাবি, নতুন চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৩৭ কোটি টাকা পেতে পারেন কামিন্স। অর্থাৎ তিন বছরে ১১১ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কামিন্সকে। বর্তমানে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে বছরে ১৮ কোটি টাকা পান তিনি। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক কামিন্স। দেশের হয়ে খেলাকেই যাতে বেশি গুরুত্ব দেন, সেই কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই মোটা অঙ্কের প্রস্তাব।
শুধু কামিন্স নন, একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ট্র্যাভিস হেডকেও। তিনিও সানরাইজার্স শিবিরের সদস্য। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কর্তা জেমস অ্যালসপ জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগের আকর্ষণের মাঝেও যাতে ক্রিকেটাররা দেশের হয়ে খেলাকে অগ্রাধিকার দেন, সেই লক্ষ্যেই নতুন চুক্তির পরিকল্পনা। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। ৩০ মে থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু আইপিএল তখনও চলবে। ৩১ মে ফাইনাল থাকায় আইপিএলে ব্যস্ত ক্রিকেটারদের পাকিস্তান সফরে পাঠানো হবে না বলেই জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও সম্মতি দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া দলের পাকিস্তানে পৌঁছনোর কথা ২৩ মে। সেখানে ৩০ মে, ২ ও ৪ জুন রয়েছে ম্যাচ। কামিন্স ও হেড ছাড়াও মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিশ, কুপার কনলি, মার্কাস স্টয়নিস-সহ একাধিক অজি ক্রিকেটার বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলছেন। তাঁদের দলের প্লেঅফে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই কারণেই এখনও পাকিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা করেনি অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে পরিষ্কার, যত বড় অঙ্কের চুক্তিই হোক না কেন, আইপিএলের টান এখন জাতীয় দলের সূচিকেও প্রভাবিত করছে।
