আইপিএল ফাইনাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বেঙ্গালুরুর হাত থেকে। আগামী ৩১ মে মেগা টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। ফাইনাল হাতছাড়া হওয়ার পর বিসিসিআইকে তোপ দেগে বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে সংস্থার তরফ থেকে। উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরু থেকে আইপিএল ফাইনাল সরিয়ে দেওয়ার কারণ নিয়ে বোর্ড সেভাবে কিছু বলেনি। তবে সূত্রের খবর, ম্যাচ স্থানান্তরের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ।
প্রথা অনুযায়ী, গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের মাঠেই ফাইনালের আসর বসে। সেই হিসেবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামীতে ফাইনাল হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। বুধবার বোর্ডের তরফে আইপিএল প্লে অফের দিনক্ষণ প্রকাশ করা হয়। সূচি অনুযায়ী, ২৬ মে কোয়ালিফায়ার ধরমশালায়। তারপর ২৭ মে এলিমিনেটর ও ২৯ মে কোয়ালিফায়ার ২ হবে নিউ চণ্ডীগড়ে। ৩১ মে ফাইনাল হবে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি দেবজিৎ সইকিয়া জানিয়েছেন, পরিচালনা ও আয়োজনের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থা ও প্রশাসনের দাবিদাওয়া রয়েছে ফাইনাল নিয়ে যেটা বোর্ডের নিয়মবিরুদ্ধ। সম্প্রতি কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানাভার দাবি করে বসেন, সব বিধায়ককে পাঁচটি করে ভিআইপি টিকিট দিতেই হবে। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা তাতে আপত্তি জানানোয় ‘শিক্ষা’ দেওয়ার কথাও বলেছিলেন বিধায়করা। এতে কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার আবার জানান, পাঁচটা নয়, বিধায়করা তিনটে করে টিকিট পাবেন। রাজনৈতিক এই সমস্যার কারণেই বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ফাইনাল।
এহেন ঘটনায় স্বভাবতই ক্ষুব্ধ কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, 'কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি তথা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বেঙ্কটেশ প্রসাদ শুরু থেকেই বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। আইপিএলের প্লে-অফ ও ফাইনাল চিন্নাস্বামীতে আয়োজন করতে যে আমরা তৈরি ছিলাম, সেই তথ্য বোর্ডকে দেওয়া হয়েছিল। এ বার বেঙ্গালুরুতে যে কয়েকটা ম্যাচ হয়েছে, তা খুব সুষ্ঠুভাবে করা হয়েছে। কারও কোনও সমস্যা হয়নি। কোনও বিতর্ক হয়নি। তার পরেও ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হল। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল জানি না।' সাম্প্রতিক অতীতে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আহমেদাবাদে আয়োজন করা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।
