মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এবার বড় বিতর্কে জড়ালেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। সিডনিতে পুলিশের পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অ্যালকোহল পাওয়া গিয়েছে অভিযোগ উঠেছে। ইস্টার সানডেতে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল, তা আদালতেই স্বীকার করে নিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
৫ এপ্রিল ‘ইস্টার সানডে’র দিন রাতের দিকে সিডনিতে পুলিশ তাঁর গাড়ি থামিয়ে নিঃশ্বাস পরীক্ষা করে। তারপরই তাঁকে সারে হিলস থানায় নিয়ে যাওয়া যায়। সেখানে আরও একবার তাঁর নিঃশ্বাস পরীক্ষা করা হয়। তখন পাকিস্তান সুপার লিগে খেলছিলেন ওয়ার্নার। সেখানে করাচির অধিনায়ক ৩৯ বছর বয়সি অজি ক্রিকেটার। করাচির দুই ম্যাচের মধ্যে প্রায় ৫ দিনের বিরতি আছে। তাই ‘ছুটি’ কাটাতে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান তিনি। আর সেখানে গিয়েই বিপত্তি। উল্লেখ্য, মারুব্রা পুলিশ স্টেশনে নিয়ে দ্বিতীয় ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্ট করা হলে তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ধরা পড়ে ০.১০৪। যা অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত আইনি সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। যার জেরে ৩৯ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ‘মিড-রেঞ্জ ড্রিঙ্ক ড্রাইভিং’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্ট করা হলে তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ধরা পড়ে ০.১০৪। যা অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত আইনি সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। যার জেরে ৩৯ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ‘মিড-রেঞ্জ ড্রিঙ্ক ড্রাইভিং’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওয়েভারলি লোকাল কোর্টে মামলার প্রথম শুনানি হলেও সেখানে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হননি ওয়ার্নার। তাঁর হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ববি হিল। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "ওয়ার্নার জানে ও ভুল করেছে। উবার ডাকতে পারত। কিন্তু গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং বোকামির পরিচয়।"
আইনজীবীর দাবি, এক বন্ধুর বাড়িতে তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন ওয়ার্নার। শেষ পানীয় নেওয়ার মাত্র ১১ মিনিট পর পুলিশ তাঁকে আটকায়। পাশাপাশি দ্বিতীয় ব্রেথ টেস্ট করাতে প্রায় ৫২ মিনিট দেরি হয়েছিল বলেও জানান তিনি। হিলের কথায়, "ইস্টারের দিনে এক-দু'গ্লাস ওয়াইন পান করা অপরাধ নয়। কিন্তু নিজের বিচারক্ষমতার উপর অতিরিক্ত ভরসা করেই সে ভুল করেছে।" ঘটনার জন্য অনুতপ্ত ওয়ার্নার। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতোই আইনি প্রক্রিয়া মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। শোনা যাচ্ছে, পরবর্তী শুনানিতে তিনি দোষ স্বীকারও করতে পারেন।
ঘটনার জন্য অনুতপ্ত ওয়ার্নার। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতোই আইনি প্রক্রিয়া মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। শোনা যাচ্ছে, পরবর্তী শুনানিতে তিনি দোষ স্বীকারও করতে পারেন।
এই ঘটনার পর সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক হিসাবে ওয়ার্নারের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসের চিফ এক্সিকিউটিভ লি জারমন বলেন, "এমন অভিযোগ সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের পক্ষে আমরা সবসময়ই স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছি।"
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১১২টি টেস্টে ৮,৭৮৬ রান করা ওয়ার্নার ২০২৪ সালে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৩৩৫ রান তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। তবে ২০১৮ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বল বিকৃতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বড় বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনায় এক বছরের জন্য নির্বাসিতও হয়েছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। উল্লেখ্য, ওয়ার্নারের মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ জুন।
