বাবর আজম (Babar Azam) ফিরলেন ও হারলেন। ১০৯৭ দিন পর পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে কামব্যাক একেবারেই সুখের হল না বাবরের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অল্প রান তাড়া করতে নেমেও ভেঙে পড়ল পাক ব্যাটিং লাইন-আপ। এই নিয়ে বিদেশে টানা আটটি টেস্ট হারল পাকিস্তান। টেস্টের ১৫০ বছরের ইতিহাসে আর কোনও দলের এরকম লজ্জার নজির নেই। অধিনায়ক বদলালেও পাক ক্রিকেটের দুর্দশা বদলাচ্ছে না।
২০২১ সালে টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছিল বাবরকে। ২০ টেস্টের পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ তিনি রান পাচ্ছিলেন না। বদলে অধিনায়ক করা হয় শান মাসুদকে। তাঁর নেতৃত্বে আবার পাকিস্তান টেস্টে জয় পাচ্ছিল না। অতএব বাবরের কামব্যাক। তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দু'টেস্টের সিরিজ খেলতে গিয়ে প্রথমেই মুখ থুবড়ে পড়ল পাক বাহিনী।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ৩১১। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু জাস্টিন গ্রিভসের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত নাস্তানাবুদ হতে হয় পাক ব্যাটারদের। নিজের টানা পাঁচ ওভারে কোনও রান না দিয়ে পাঁচটি উইকেট তুলে নেন গ্রিভস। যা বিশ্বরেকর্ডে নজির। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২৮২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড পায় ২৯ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে যায় ১৮১ রানে। কিন্তু পাকিস্তান মাত্র ২১১ রানও তাড়া করতে পারেনি। ১২০ রানে অলআউট হয়ে যান বাবর আজমরা। অধিনায়কের ৫৮ ছাড়া কেউই রান পাননি। এই ইনিংসে ৫ উইকেট নেন জেডন সিলস। পাকিস্তান টেস্ট হারে ৯০ রানে।
এই নিয়ে বিদেশে টানা আটটি টেস্ট হারল পাকিস্তান। ২০২৩-র ডিসেম্বর থেকে হারা শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশের পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজেও লজ্জা। হারের পর বাবর দোষ দিলেন শান মাসুদের চোটকে। তাঁর বক্তব্য, "গত কয়েকদিনে আমরা ভালোই খেলেছি। তবে আজ ব্যাটিং বিভাগ ব্যর্থ। শান মাসুদের আঙুল ভেঙে গিয়েছে। সেটাই বিপদে ফেলল।"
