ম্যাচ গড়াপেটা কাণ্ডে আরও বিপাকে ভারতীয় টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক শুভমান গিলের সতীর্থ মনজ্যোৎ কালরা। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল শ্রীলঙ্কার আবেদন। ফলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা প্রাক্তন ক্রিকেটারকে।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের দল জাফনা কিংসের মালিকানা রয়েছে শুভমানের প্রাক্তন সতীর্থ মনজ্যোৎ কালরার হাতে। চলতি বছরের শুরুতেই দলের অংশীদারিত্ব কেনেন তিনি। অভিযোগ, জাফনা কিংসকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অপরাধচক্র শুরু করে ফেলেন মনজ্যোৎ। ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার জন্য নাকি নিজের দলের ক্রিকেটারদেরই ঘুষ দিচ্ছিলেন তিনি। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে মনজ্যোতের কথামতো কাজ করতে হবে-এটাই ছিল শর্ত। বিনিময়ে বিপুল অর্থ দিতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটারদের।
বাধ্য হয়ে লঙ্কা বোর্ডের দ্বারস্থ হন জাতীয় দলের তিন পরিচিত মুখ-ভানুকা রাজাপক্ষে, আবিষ্কা ফার্নান্ডো এবং দুনিথ ওয়েলালাগে। অভিযোগ দায়ের করেন মনজ্যোতের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে শ্রীলঙ্কার দুর্নীতিদমন শাখা। সিট গঠন করে তদন্তে নামে পুলিশও। প্রায় ১০ দিন ধরে তদন্ত চলার পর শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয় শুভমানের সতীর্থকে। আপাত শ্রীলঙ্কার জেলে কালরা এবং তাঁর সহকারী যুবরাজ পুষ্পা।
শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে কালরা এবং তাঁর সহকারী জামিনের আবেদন করেছিলেন। তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, দু’জনেরই শরীর খারাপ। তাই মানবিকতার দিক থেকে তাঁদের জামিন দেওয়া উচিত। সেই আবেদনের বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দাবি মেনে দু’জনকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন চিফ ম্যাজিস্ট্রেট। যার অর্থ আপাতত জেলেই থাকতে হবে কালরাদের। উল্লেখ্য, শুভমান গিল এবং ভারতীয় দল আগামী মাসের মাঝামাঝি শ্রীলঙ্কাতেই টেস্ট খেলতে যাবেন। ততদিনে কালরা-রা জামিন পান কিনা সেটাই দেখার।
