আবারও বিতর্ক পাকিস্তান সুপার লিগে। এবার যার কেন্দ্রে লাহোর কালান্দার্স। বল বিকৃতির অভিযোগে পাঁচ রান পেনাল্টি গুনতে হয় তাদের। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ম্যাচের ফলাফলে। তিন বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় করাচি কিংস।
করাচির ইনিংসে ১৯তম ওভারের ঘটনা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য কিংসের দরকার ছিল ১৪ রান। করতে আসেন হ্যারিস রউফ। তার আগেই নাটক! রউফের সঙ্গে ছোট্ট আলোচনায় যোগ দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফখর জামান। সেখানে একাধিকবার হাতবদল হয় বল। নাটক এখানেই শেষ নয়। দেখা যায়, রউফের হাত থেকে বল নিয়ে তাতে কিছু একটা ঘষছেন ফখর। এর ঠিক পরেই হ্যারিসের হাতে বল তুলে দেন তিনি।
এই দৃশ্য নজর এড়ায়নি আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদির। পরিস্থিতি বুঝে তিনি বল পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য আম্পায়ার শারফুদ্দৌলার সঙ্গে আলোচনা করেন। খানিক পরে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, বলটি বিকৃতি করা হয়েছে। এরপর আইসিসির নিয়ম মেনে প্রতিপক্ষ করাচির ঝুলিতে ঢুকে পড়ে বাড়তি পাঁচ রান। একেবারে ‘বোনাস প্যাক’! বলও সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলা হয়। ফখর জামানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন। পুরো ঘটনাই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফলে ফখর যেন ‘লাইভ টেলিকাস্টেই’ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলেন।
ম্যাচের পর শাহিন আফ্রিদি বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ভিডিও দেখে আলোচনা করব। পাঁচ রান পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। আমি কেবল বল শুকিয়ে চকচকে রাখার চেষ্টা করছিলাম। তখন আম্পায়াররা আমাদের জার্সির ভেতরে বল শুকোতে নিষেধ করেন। তাঁরা কাকে অভিযুক্ত করছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়। তাই পাঁচ রান পেনাল্টি দেওয়া অদ্ভুত সিদ্ধান্ত। এখনও পর্যন্ত আমাকে কোনও তদন্তের জন্য ডাকা হয়নি।”
তাঁর মন্তব্য টেনে এক নেটিজেন লিখছেন, 'ভিডিও দেখে আলোচনা? আমরা তো ইতিমধ্যেই থার্ড আম্পায়ার।' আরেকজনের খোঁচা, “ক্রিকেটে নতুন স্ট্র্যাটেজি - ব্যাটিং, বোলিং আর এখন ‘বল পলিশিং টিমওয়ার্ক’!” নেটিজেনদের ভাষায়, 'ডিআরএস লাগে না, এখানে তো সোজা এইচডি রিপ্লে-তেই সব পরিষ্কার!' এই ‘বোনাস’-এর জেরে লক্ষ্য নেমে আসে ৯ রানে। যেন ম্যাচে হঠাৎ ‘ডিসকাউন্ট অফার’ চালু। শেষ ওভারের প্রথম বলে খুশদিল শাহ আউট হলেও, একটি ওয়াইডের পর আব্বাস আফ্রিদি চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন।
