টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছাঁচে ফেলা যায় না, এমন বোলারদের তালিকায় থাকবেন শার্দূল ঠাকুর (Shardul Thakur)। গতি নয়, ক্লাসিক সুইং নয়, ভ্যারিয়েশনও খুব বেশি নেই। তবু উইকেট তুলে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তাঁর। আর সেই কারণেই হয়তো তাঁর নামের আগে 'লর্ড' বসানো হয়। আইপিএলে মুম্বইয়ের জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই পরিচিত ছন্দে দেখা গেল তাঁকে। ওয়াংখেড়েতে তিনিই হয়ে উঠলেন ম্যাচের মোড় ঘোরানোর কারিগর। 'প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচে'র পুরস্কারও জেতেন তিনি।
ফিন অ্যালেনকে দিয়ে শুরু। তারপর উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া অজিঙ্ক রাহানে, ক্যামেরন গ্রিনকেও সাজঘরে ফেরান শার্দূল। হাই স্কোরিং রানের ম্যাচে ৩৯ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। উইকেটগুলো ঠিক সময় না নিলে মুম্বইয়ের সামনে আরও বড় লক্ষ্য রাখত কেকেআর। লখনউ সুপার জায়ান্টস থেকে মুম্বইয়ে ফিরে এসে শার্দূল যেন নতুন ভূমিকা পেয়েছেন। আর সাপোর্ট বোলার নন, তিনি এখন উইকেট নেওয়ার মূল অস্ত্র। জশপ্রীত বুমরাহর সঙ্গে তাঁর জুটি জমে উঠবে বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল।
ম্যাচের পর শার্দূল বলেন, “এটা আমার নিজের শহর। এখানে এসে যেভাবে সমর্থন পেয়েছি, সেটা এক কথায় অসাধারণ। সরাসরি প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়াটা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তার জন্য পুরো টিমকে ধন্যবাদ।” কীভাবে এত সীমিত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সফল হন শার্দূল? অতীতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি শুধু বলটা করি। পিচে পড়ার পর কী হবে, তা জানি না।” এই সহজ কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর শক্তি। ভিন্ন সিম পজিশন, সূক্ষ্ম গতি পরিবর্তনকে যেভাবে কাজে লাগান তিনি, তাতে করে তাঁকে সামলানো ব্যাটারদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।
এমন অসামান্য পারফরম্যান্সের পর 'লর্ড' আবার ট্রেন্ডে। এক নেটিজেন লিখেছেন, 'ক্রিকেটের সব নিয়ম ভুলে যান। শার্দূল নিজের নিয়মে খেলে।' আরেকজনের মন্তব্য, 'যখনই ম্যাচ হাতছাড়া হতে বসে, তখনই লর্ড ঠাকুর অবতীর্ণ হন। এটা আর কাকতালীয় নয়।' অন্য নেটিজেনের কথায়, 'বুমরাহ নিয়ন্ত্রণ করে, ঠাকুর ধ্বংস করে। মুম্বইয়ের বোলিং পারফেক্ট ব্যালান্স।' কেউ মজার ছলে লেখেন, 'পিচ, কন্ডিশন কিছুই লাগে না। লর্ড চাইলে উইকেট আসবেই।' সব মিলিয়ে আবারও প্রমাণ হল, সব সময় নিখুঁত হতে হয় না, কার্যকর হলেই যথেষ্ট।
