গত মরশুমে আট নম্বরে শেষ। কথা উঠেছিল অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্ব নিয়ে। এবার কেকেআর কীরকম ফল করবে, সেটা তো সময়ই বলবে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে যে রাহানে এবারও নাইট ব্রিগেডের ভরসা, সেটা প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন অধিনায়ক। ওয়াংখেড়েতে বরাবরই চাপে থাকে কেকেআর। রাহানের ব্যাটে শুরু সেই চাপ উড়ল ঠিকই, তবে মাঝের দিকে অনায়াসে রান উঠতে পারত। বুমরাহ-শার্দূলদের সৌজন্য মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সেটা ২২০ রানের মধ্যে আটকে দিল। রোহিত-হার্দিকের কাছে এই রানটা খুব বড় লক্ষ্য কি? ব্লেসিং মুজারাবানি বা বৈভব অরোরাদের জন্য সেই প্রশ্নটা থেকেই গেল।
কারণ, মুম্বইয়ের পিচে বরাবরই ব্যাটারদের স্বর্গ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও রানের ফুলঝুরি দেখেছে ক্রিকেটদুনিয়া। তবে ওয়াংখেড়েতে এদিন মহা মোকাবিলার আগে দুই হার্দিক পাণ্ডিয়া ও অজিঙ্ক রাহানে, দুই অধিনায়কই মেনে নিলেন এই পিচ একটু আলাদা। টসে জিতে কেকেআর'কে ব্যাট করতে পাঠান হার্দিক। বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলানো হবে। কিন্তু তিনি যে পরিকল্পনায় বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, সেটাও সম্ভবত মানতে চাইছেন না হার্দিক। নাহলে জশপ্রীত বুমরাহকে আনতে কেউ পঞ্চম ওভার পর্যন্ত সময় নেয়? ততক্ষণে তাণ্ডবনৃত্য শুরু করে দিয়েছিলেন অজিঙ্ক রাহানে ও ফিন অ্যালেন। প্রথম চার ওভারে উঠে যায় ৫৭ রান। গজনফারের এক ওভারে অ্যালেন তোলেন ১৭ রান। আর হার্দিকের ওভারে রাহানে নিলেন ২৬ রান। ওয়াংখেড়েতে তখন ছক্কার বৃষ্টি শুরু করেছেন 'ঘরের ছেলে' রাহানে।
দু'জনে মিলে যে রানের ঝড় শুরু করেছিলেন, তাতে প্রথম লাগাম টানলেন শার্দূল ঠাকুর। স্লোয়ার কাজে লাগিয়ে অ্যালেনকে (৩৭) আউট করেন 'লর্ড' শার্দূল। নজর ছিল ২৫ কোটির ক্যামেরন গ্রিনের দিকে। শুরুটা খারাপ করেননি। সেই শার্দূলই ফেরালেন গ্রিনকে। ১০ বলে ১৮ রান করে থামল 'সবুজ বিপ্লব'। কিন্তু থামেননি অধিনায়ক রাহানে। বয়স হয়েছে, দলের বোঝা ইত্যাদি নানা কটাক্ষ মাঝেমধ্যেই উড়ে আসে রাহানের জন্য। কিন্তু নারিনকে ওপেনে নামানোর চেনা 'ফর্মুলা' থেকে সরে এসে নাইটদের নতুন পথ দেখাচ্ছেন অধিনায়ক। ৪০ বলে ৬৭ রান করে সেই শার্দূলের (৩৯/৩) হাতেই বন্দি হলেন 'জিঙ্কস'। হার্দিকও নেতৃত্বে আর তেমন ভুল করেননি। ঠিক সময়ে ট্রেন্ট বোল্ট বা বুমরাহকে বোলিংয়ে এনে নাইটদের রানের গতি অনেকটা কমিয়ে ফেলল মুম্বই।
তারপরও যে রানটা দু'শো পেরোল, তার প্রধান কারণ কেকেআরের আরেক মুম্বইকর অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। যাঁকে এবার 'স্টার বয়' বলে প্রচার করা হচ্ছে, সেই অঙ্গকৃষ এবার 'স্টার' হওয়ার জন্য তৈরি। বুমরাহদের (৩৯/১) সামলে অনায়াসে হাফসেঞ্চুরি করে যান তিনি। মাঝে রোহিত শর্মা তাঁর একটি ক্যাচও ফেলেন। রিঙ্কু সিং ২১ বলে ৩৩ রান করেন। বিপক্ষে বুমরাহরা থাকায় হয়তো ফিনিশিংটা যথাযথ হল না। আগামী ম্যাচগুলোতে মিডল অর্ডার বা ফিনিশিংয়ে আন্দ্রে রাসেল নামের এক প্রাক্তনকে কেকেআর মিস করে কি না, সেটাই দেখার।
