বোর্ডের বিরুদ্ধে 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করেছেন তাঁরা। তারপর থেকেই লাগাতার হুমকি পাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা! কখনও বলা হচ্ছে, তাঁরা দালালি করছেন। কখনও বা ক্রিকেটারদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা সুস্থভাবে বাংলাদেশের মাটিতে হেঁটে বেড়াতে পারবেন না। সবমিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, নিজের দেশেই কেন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা?
বিসিবির অন্যতম ডিরেক্টর নাজমুল ইসলাম “কোটি-কোটি টাকা খরচ করে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানোর পরেও যদি তাঁরা কিছু না করতে পারেন, তখন কী হবে? ক্রিকেটারদের থেকে কি টাকা ফেরত চাওয়া হবে?” এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রিকেট বয়কটের ডাক দেন পদ্মাপাড়ের ক্রিকেটাররা। তাঁরা দাবি করেন, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে নাজমুলকে। বিসিবি থেকেও তাঁকে সরাতে হবে। শেষ পর্যন্ত ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে নাজমুলকে বরখাস্ত করা হয়।
এহেন পরিস্থিতিতে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসে ক্রিকেটারদের অ্যাসোসিয়েশন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ মিঠুন বলেন, "ফোন কলে এবং হোয়াটসঅ্যাপে অশ্রাব্য় গালিগালাজ করা হচ্ছে। আমাদের বলা হচ্ছে, দালালি করে দেশের পরিবেশ নষ্ট করছি আমরা। শুধু তাই নয়, আমাদের বলা হচ্ছে আজকের পর থেকে কোনও ক্রিকেটার বাংলাদেশের মাটিতে সুস্থভাবে হাঁটতে পারবে না।" মিঠুনের প্রশ্ন, তাঁরা তো দেশবিরোধী কোনও কথা বলেননি, স্রেফ ক্রিকেটারদের অধিকার নিয়ে সরব হয়েছেন। তাহলে কেন এভাবে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের?
উল্লেখ্য, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিরাপদ নন বলে দাবি তুলেছে বিসিবি। তাদের দাবি, ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন না লিটন দাসরা। যদিও সূত্রের খবর, আইসিসি মনে করছে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, নিজের দেশেই সুরক্ষিত নন মুস্তাফিজুর রহমানরা! সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হুমকির পরিমাণও বাড়ছে বলেই জানিয়েছেন মিঠুন। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ বোর্ড কর্তারা নিজের দেশের মাটিতেই ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না কেন?
