নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দীর্ঘ টালবাহানার পর বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না। এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাছে আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। কারণ, পেশাদারিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে হয়তো দাঁড় করাবে তাদের। যদিও এই সার সত্য হয়তো বুঝতে পারছেন না বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে ক্ষতি ভারত ও আইসিসি'র। এক্ষেত্রে তাঁদের নতুন 'তাস' ২০ কোটি দর্শক।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বিসিবি'কে। তবে এসব তোয়াক্কা না করে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, "আর্থিক ক্ষতির চেয়েও দেশের ক্রিকেটার, সমর্থক সংবাদমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু জেনে যে দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেখানে তো আর খেলোয়াড়দের পাঠাতে পারি না। কোনও দেশে দল পাঠাব কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সরকারের। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে আমরা খেলতে যাব না।"
বুধবারের বৈঠকে আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশ বোর্ড যদি নতজানু না হয়, যদি না ইউনুস প্রশাসন ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসায় সম্মতি প্রদান করে, তা হলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা তাদের হবে না। সেক্ষেত্রে বিকল্প দেশকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হবে। এই বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য, "আমরা আবার আইসিসি'কে বিষয়টা জানাব। আশা করি তারা আমাদের কথা শুনবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমরা সন্দিহান। আইসিসি যদি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি না দেয়, তাহলে তো ২০ কোটি দর্শক হারাবে ওরা। আশা করি আইসিসি এত বড় ঝুঁকি নেবে না।"
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য, "বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমরা সন্দিহান। আইসিসি যদি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি না দেয়, তাহলে তো ২০ কোটি দর্শক হারাবে ওরা।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশ বিশ্বকাপ না খেললে সেটা আইসিসি'র জন্য সুখবর নয়। ক্রিকেট বড় হচ্ছে। ২০২৮-এ অলিম্পিকে যাচ্ছে ক্রিকেট। ২০৩২-এ ব্রিসবেন হোস্ট করছে। ২০৩৬-এ অলিম্পিক বিড করতে চলেছে ভারত, সেখানে কমনওয়েলথ গেমসও হবে। বাংলাদেশ না খেললে সেটা আয়োজক দেশের ব্যর্থতা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করে যাব, যাতে আমাদের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমরা হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমাদের একটাই দাবি। বিশ্বকাপ খেলতে চাই আমরা। কিন্তু ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে চাই।"
