shono
Advertisement
Anshuman Hooda

দিনে ইঞ্জিনিয়ার, রাতে ক্রিকেটার! আইপিএল খেলাই স্বপ্ন দিল্লির তরুণ পেসারের

মসৃণ তখ্‌তেই বসেই জীবনের বাকি সময়টা কেটে যেতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাইশ গজের টানই জিতে গেল।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:44 PM Sep 04, 2026Updated: 05:44 PM Sep 04, 2026

অফিসের ল্যাপটপ না কি ক্রিকেট বল, কোনটি বেছে নেবেন? প্রশ্নটা শুনেই হেসে ফেললেন অংশুমান হুডা। উত্তর দিতে অবশ্য বিলম্ব করলেন না। বলাই বাহুল্য যে, ক্রিকেট বলই বেছে নিয়েছিলেন দিল্লির তরুণ পেসার। অথচ বছর কয়েক আগেও তাঁর জীবন ক্রিকেটময় ছিল না এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রর। বহুজাতিক সংস্থার চাকরিও করতেন। সব মিলিয়ে মসৃণ তখ্‌তেই বসেই জীবনের বাকি সময়টা কেটে যেতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাইশ গজের টানই জিতে গেল।

Advertisement

কে এই অংশুমান? দিল্লির এক সাধারণ শিক্ষিকা পরিবারের ছেলে তিনি। ২০২৩ সালে দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রোডাকশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে চাকরি পান বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক সংস্থা ইওয়াই-তে। নিশ্চিত ভবিষ্যতের দরজা তখন তাঁর সামনে পুরোপুরি খোলা। কিন্তু ভাগ্যের চিত্রনাট্যে যে তখনও একটা মোচড় বাকি! এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোটবেলায় ক্রিকেট নয়, অংশুমানের প্রথম প্রেম ছিল রোলার স্কেটিং। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতাতেও খেলেছেন। ক্রিকেটের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ ছিল না। কলেজে উঠে বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস বলে খেলতে গিয়ে হঠাৎই পেস বোলিংয়ের নেশা চেপে বসে। সেই নেশাই ধীরে ধীরে বদলে দেয় জীবন।

২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা, বোলিং অ্যাকশন এবং গতি নজরে আসে কোচ হরিশ ডাগরের। কোচের পরামর্শেই শুরু হয় ক্রিকেটের নিয়মিত প্রশিক্ষণ। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টাও করেন। কিন্তু পর পর দু'বার ব্যর্থতা। তখনই ক্রিকেট ছেড়ে ফের কর্পোরেট জীবনে মন দেওয়ার কথা ভাবছিলেন অংশুমান। ঠিক সেই সময় পাশে দাঁড়ান ডাগর। আরও এক বছর তাঁকে সময় দেওয়ার অনুরোধ করেন কোচ।

এই সময়েই চাকরির 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দিনের একটা বড় অংসজ অফিসের কাজে, আর বাকি সময় ক্রিকেটে দিতেন। রাতে নেট, তার পরে জিম– এভাবেই চলত। অর্থাৎ দিনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরি, রাতে বোলিংয়ে শান দেওয়ার মহড়া চলত। কেবল গতি বাড়ানোই নয়, দ্রুতগতির বোলিংয়ের ধকল সামলানোর জন্য শরীরকেও তৈরি করেন তিনি। ডাগরের নজর ছিল তাঁর মানসিক প্রস্তুতির দিকেও। ধীরে ধীরে ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছতে শুরু করে অংশুমানের গতি। সঙ্গে লেগ কাটার, অফ কাটারের মতো বৈচিত্র্যও যোগ হয় অস্ত্রে।

পরিশ্রমের ফল পান হাতেনাতে। এবছরের দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্জের জার্সিতে নেমেই নজর কাড়েন অংশুমান। গোটা প্রতিযোগিতায় ২২টি উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে পার্পল ক্যাপ পান। ফাইনালেও তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন। কেবল পুরস্কার জেতাই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্ণধার শিখর ধাওয়ানের কাছ থেকেও মেলে মূল্যবান পরামর্শ। তবে তাঁর স্বপ্নটা আরও বড়। একাধিক আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির ট্রায়াল এবং নেট বোলার হিসাবে ডাক আসতে শুরু করেছে দিল্লির এই তরুণ পেসারের কাছে। সামনে রনজি ট্রফি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই করছেন অংশু।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement