সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য পদ থেকে বৃহস্পতিবার হঠাৎই ইস্তফা দিলেন আশিস চক্রবর্তী। এদিন চিঠি দিয়ে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে তিনি জানিয়ে দেন যে, ব্যক্তিগত কারণে সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হিসেবে আর থাকতে চান না। অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হিসেবে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থাকে যে সময় দেওয়া উচিত, তা আশিসের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই সিএবি প্রেসিডেন্টের কাছে আশিস আবেদন করেছেন যে, তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হোক।
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন ইস্তফা প্রদান? বিশেষ করে সিএবিকে কেন্দ্র করে যখন বর্তমানে তীব্র টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে? আশিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, ‘‘দেখুন, আমার নথি অনুসারে আগামী জানুয়ারি মাসে সত্তর বছর হবে। কিন্তু আসলে আমার সত্তর বছর গত ১৩ জুন হয়ে গিয়েছে। জন্মদিন পালনও হয়েছে। নথি অনুযায়ী, আমি থাকতে পারতাম। কিন্তু বিবেক সায় দিল না। আমার জন্মদিনের পর বিষয়টা নিয়ে অনেক ভেবেছি। আমার মনে হয়েছে, নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে আমার সরে যাওয়াই ঠিক হবে। তাই সিএবি প্রেসিডেন্টকে আমরা ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছি।’’
আসলে লোধা আইন অনুযায়ী কোনও ক্রিকেট প্রশাসনিক কর্তার বয়স সত্তর বছর হয়ে গেলে, তিনি আর পদে থাকতে পারবেন না। যে কারণে দীর্ঘ টালবাহানা শেষে সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সিএবি। যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচনও ডাকা হয়েছে। এবার আশিসও সরে গেলেন। কিন্তু সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্যের ইস্তফার পর স্থানীয় ক্রিকেটমহল একটা প্রশ্ন তুলছে। বলাবলি চলছে, আশিস না হয় নৈতিকতার কথা ভেবে সরে গেলেন। তাঁর নথি অনুযায়ী বয়স সত্তর বছর না হওয়া সত্ত্বেও। কিন্তু বাকিরা? যেমন সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত? তাঁর তো দু’রকম নথি। এসআইআর তালিকা অনুযায়ী, নীতীশরঞ্জনের বয়স সত্তর হয়ে গিয়েছে! ও দিকে, তাঁর পাসপোর্ট সহ অন্যান্য নথিতে বয়স রয়েছে উনসত্তর! বলাবলি চলছে, একই লোকের দু’রকম বয়স কী করে হতে পারে? কোনটাই বা নীতীশের আসল বয়স? সত্তর নাকি উনসত্তর? তথ্য-প্রমাণাদি সহ নীতীশের ‘আসল’ বয়সের প্রমাণ দেবে কে?
