টিম ইন্ডিয়ার ওয়ানডে দলে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান জল্পনা। আগামী বছরের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তিনি আছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট করেনি নির্বাচক কমিটি। এরই মধ্যে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফের মন্তব্য শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি মনে করেন, রোহিত নিজে থেকে অবসর নিতে চান না। তাঁকে যদি দল থেকে সরাতেই হয়, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচকদেরই নিতে হবে।
অবসর নিয়ে হিটম্যানের উপর যেভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, সেটা একেবারে নাপসন্দ ভারতীয় বোর্ডের। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, যেভাবে রোহিতকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ক্রিকেটে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ বিসিসিআই। বস্তুত, গত মাসে লর্ডস ওয়ানডের আগে নির্বাচকদের তরফ থেকে নাকি রোহিতকে বলে দেওয়া হয়, ইংল্যান্ড সিরিজের পর তাঁকে আর খেলানো হবে না। তখনই নাকি প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে নাকি বলে দেওয়া হয়, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তিনি নেই। এরপর হিটম্যান নিজেই বিসিসিআইয়ের দ্বারস্থ হন। ভারতীয় বোর্ডও জল্পনা উড়িয়ে দেয়।
এই বিষয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ মনে করেন, মানসিকতায় এখন বদল এসেছে। তিনি বলেন, "একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, রোহিত যেন বলছে, আমি যদি ভালো না খেলি, তাহলে সিদ্ধান্ত আপনারা নিন। আমাকে বাদ দিতে হলে আপনারাই বাদ দিন।" প্রাক্তন ক্রিকেটারের দাবি, রোহিত এখনও খেলা নিয়েই ভাবছেন। "ও অবসর ঘোষণা করেনি। ব্যাটিংয়ের প্রতি ওর আগ্রহ, মাঠে নামার মানসিকতা এবং লর্ডসে সেঞ্চুরি– সবই বলে দেয়, ও এখন শুধু খেলতে চায়। এর পর নির্বাচকরা কী করবেন, সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত।" মন্তব্য কাইফের।
কাইফের মতে, শুধু মাঠে স্বাধীনতা দিলেই হবে না, টিম ম্যানেজমেন্টেরও তাদের অবস্থান জানানো উচিত। তাঁর সংযোজন, "অনেকেই বলেন, রোহিতকে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কেউ বলেনি যে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রোহিত আছে। এই বার্তাটাও দেওয়া প্রয়োজন।" পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে দু'বার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছিলেন রোহিত। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই ফরম্যাটকে বিদায় জানান তিনি। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যর্থতার পর নিজেকে টেস্ট দল থেকে সরিয়ে নিয়ে অবসরও ঘোষণা করেন।
কাইফের কথায়, "দু'বার সিদ্ধান্তটা নিজেই নিয়েছিল। কিন্তু এবার রোহিত যেন বলছে, আমাকে বাদ দিতে হলে আপনারাই বাদ দিন। সেটা আমার জন্য অস্বস্তিকর হলেও সমস্যা নেই, সিদ্ধান্ত আপনারাই নিন।" বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন কাইফ। তাঁর মতে, লর্ডস ম্যাচের আগে বিসিসিআইয়ের বিবৃতি না এলে ম্যাচের চেয়ে রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি আলোচনা চলত।
