বয়স মাত্র ১৫। কিন্তু এই বয়সেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে দিচ্ছে বৈভব সূর্যবংশী। এতদিন ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালাত। কিছুদিন আগে বোলিংয়ে বিপক্ষকে জব্দ করেছে। এবার অধিনায়কত্বে। বৈভবের মগজাস্ত্রে উইকেট ঢুকল মুকেশ কুমারের পকেটে। একে তো মাত্র ১৫ বছর বয়সেই জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে নজির গড়েছে। এবার ঠিক সময় মতো ডিআরএস নিয়ে খেলার গতি ঘুরিয়ে দিল 'বেবি বস'।
দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে মধ্যাঞ্চলের মুখোমুখি পূর্বাঞ্চলের। যে দলের নেতৃত্ব বৈভবের কাঁধে। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্বাঞ্চল। ম্যাচের ৪০ ওভারের কথা। বোলিংয়ে ছিলেন বাংলার মুকেশ কুমার। মধ্যাঞ্চলের আর্যান জুয়ালের ব্যাটে লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার কুমার কুশাগ্রর হাতে। আম্পায়ার আউট দেননি। পূর্বাঞ্চলের প্লেয়াররা অপেক্ষায় ছিলেন কী করা উচিত। বৈভব ছিল স্লিপে। মুকেশ কুমার তাঁকে বলেন, বল হয়তো ব্যাটে লেগেছে। সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত ছিলেন বিরাট সিং।
ডিআরএসের আর তিন সেকেন্ড বাকি ছিল। তখন সবাইকে চমকে দিয়ে রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বৈভব। আর রিভিউতে দেখা যায়, বল আর্যানের ব্যাটে লেগেছে। আম্পায়ার আউটের ইঙ্গিত দিতেই আনন্দে ভাসে মুকেশ-মহম্মদ শামি-সহ গোটা দল। বিশেষ করে বৈভব ও বিরাটকে নিয়ে মাতামাতি বেশি ছিল। ১৫ বছর বয়সেই বৈভব যেভাবে নেতৃত্বের চাপ সামলাল, তাতে নেটিজেনরাও প্রশংসা করছেন।
প্রথমে অবশ্য অধিনায়ক হওয়ার কথা ছিল না তার। সহ-অধিনায়ক হিসাবে দলে ছিল বৈভব। কিন্তু চোটের কারণে ঈশান কিষান মাঠ ছাড়েন। ১৯তম ওভারে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে ডান কবজিতে চোট পান ইশান। প্রাথমিক চিকিৎসার পরেও আর উইকেটকিপিং চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। পরে কবজিতে মোটা স্ট্র্যাপ বাঁধা অবস্থায় সাইডলাইনে দেখা যায় তাঁকে। ঈশানের জায়গায় উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নেন কুমার কুশাগ্র। আর দলের নেতৃত্ব চলে যায় বৈভবের হাতে।
