shono
Advertisement
Bengal cricketers

১০ বছর বয়স ভাঁড়ানো ক্রিকেটারের গায়েও উঠেছে জার্সি, কোথায় ছিল বঙ্গক্রিকেটে ‘ভেরিফিকেশন সেল’?

বঙ্গ ক্রিকেটে বয়স ভাঁড়িয়ে খেলার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু ভাবাই যায় না, প্রায় ১০ বছর বয়স ভাঁড়িয়ে বাংলা ক্রিকেটে একজন খেলে গিয়েছেন!
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 01:08 PM Sep 04, 2026Updated: 02:11 PM Sep 04, 2026

অরুণ কুমার চৌরাশিয়া: ১১৫ মাস। অর্থাৎ, ন’বছর সাত মাস।
মহিপাল যাদব: ৯৭ মাস। কিংবা আট বছর এক মাস।
প্রভাত মৌর্য: ৫৭ মাস। বছরের হিসেবে, প্রায় পাঁচের কাছাকাছি।
অমিত রাজ উপাধ‌্যায়: ৪৮ মাস। সোজাসুজি চার বছর।
রবি কুমার: ৪৫ মাস। যা প্রায় চার বছর।

Advertisement

উপরে যাঁদের নাম লেখা হল, তাঁরা প্রত‌্যেকে প্লেয়ার। ক্রিকেটার। আর পাশে যা লেখা হল, সেটা তাঁদের বয়স ভাঁড়ানোর খতিয়ান! যে দুষ্কর্ম করে এঁরা কেউ বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়, কেউ অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে খেলে বেরিয়েছেন। কেউ কেউ আবার দু’টো পর্যায়ই খেলেছেন। দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর।

বঙ্গ ক্রিকেটে বয়স ভাঁড়িয়ে খেলার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু ভাবাই যায় না, প্রায় ১০ বছর বয়স ভাঁড়িয়ে বাংলা ক্রিকেটে একজন খেলে গিয়েছেন! সর্বাগ্রে যাঁর নাম লেখা হল– সেই অরুণ কুমার চৌরাশিয়া। প্রায় দশ-দশটা বছর বয়স ভাঁড়িয়ে বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২৩, দু’টো পর্যায়েই খেলে গিয়েছেন তিনি। হয় কেউ তা দেখেনি। কিংবা দেখেও দেখেনি! দশ বছর ভাঁড়িয়ে কোনও ক্রিকেটার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় খেললে, শারীরিক গঠনে তার বয়স লুকনো কখনও সম্ভব? আঠারো বছরের ছেলে আর আঠাশ বছরের তরুণ কখনও কাঠামোগত ভাবে এক হবে?

যে দুষ্কর্ম করে এঁরা কেউ বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়, কেউ অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে খেলে বেরিয়েছেন। কেউ কেউ আবার দু’টো পর্যায়ই খেলেছেন। দিনের পর দিন।

তা, সিএবি এঁদের প্রত‌্যেককে শাস্তির নিদান দিয়েছে। নির্বাসনে পাঠিয়েছে। স্থানীয় ক্রিকেটে ট্রান্সফার-যোগ‌্য ক্রিকেটার তালিকায় এঁরা কেউ স্থান পাননি। ঠিক আছে। ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু তার পরেও একটা প্রশ্ন পড়ে থাকে। যা স্থানীয় ক্রিকেটমহল তুলছে। বলছে, বোর্ড নির্দেশিকা যদি না আসত, যদি ভারতীয় বোর্ড নিজে থেকে অধীনস্থ রাজ‌্য ক্রিকেট সংস্থাদের নির্দেশ না দিত স্থানীয় ক্রিকেটারদের আধার কার্ড আপডেট হিস্ট্রি ‘চেক’ না করতে, অরুণ কুমার চৌরাশিয়ারা আদৌ ধরা পড়তেন কি? রোখা যেত আট বছর বয়স ভাঁড়িয়ে দিব‌্য খেলে যাওয়া মহিপাল যাদবকে?

সন্দেহ আছে। অন্তর্তদন্ত চালিয়ে সর্বমোট জনা বারো ক্রিকেটারের নাম-ধাম পাওয়া যাচ্ছে, যাঁদের অধিকাংশের বয়স ভাঁড়ানোর ন‌্যূনতম হিসেব ২৬-২৭ মাস। সর্বোচ্চ বয়স ভাঁড়ানোর তালিকা তো আবার ধাপে-ধাপে উঠেছে। কারও ৩২ মাস। ৩৫ মাস। কারও ৩৬ মাস। কারও ৪৫ মাস। কারও ৪৬ মাস। কারও ৫৭ মাস। সম্প্রতি যে দুই ‘বাংলা’ ক্রিকেটারকে নিয়ে শোরগোল পড়ল, সেই রবি কুমার এবং রোহিত যাদবের বয়স ভাঁড়ানোর খতিয়ান শুনবেন? রবি কুমারের জন্মতারিখে গরমিল ৪৫ মাসের! অর্থাৎ, প্রায় চার বছর! রোহিতের ২৭ মাসের। দু’বছরের একটু বেশি। ময়দান যার পর বলাবলি করছে, বাংলা ক্রিকেটে ‘ঘুণপোকা’ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, তারই প্রতিবিম্ব ক্রিকেটারদের এ হেন বয়স ভাঁড়ানোর খতিয়ান। এক বছর বয়স ভাঁড়ানোই ঘোর অপরাধ। সেখানে দশ বছর! আট বছর!

বাংলা ক্রিকেটে ‘ঘুণপোকা’ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, তারই প্রতিবিম্ব ক্রিকেটারদের এ হেন বয়স ভাঁড়ানোর খতিয়ান। এক বছর বয়স ভাঁড়ানোই ঘোর অপরাধ। সেখানে দশ বছর! আট বছর!

‘বাংলা’ স্পিনার রোহিতকে ইতিমধ‌্যে সিএবি নয়, ভারতীয় বোর্ডও দু’বছরের নির্বাসনে পাঠিয়েছে। যে খবর বৃহস্পতিবার একমাত্র প্রকাশিত হয় ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এ। এখানে লিখে রাখা যাক, অনূর্ধ্ব উনিশ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টো ফর্ম‌্যাটের ভারতীয় দলেই রাখা হয়েছিল রোহিতকে। ওয়ানডে এবং মাল্টি ডে। দু’টো ফর্ম‌্যাট থেকেই বাদ পড়ে গিয়েছেন তিনি। আরও দু’জনকে শোনা যাচ্ছে বাদ দিয়েছে সিএবি। যাঁরা ট্রান্সফার-যোগ‌্য তালিকায় ছিলেন প্রথমে। তাঁরা বিকাশ সিং (সিনিয়র) এবং গৌরব সিং চৌহ্বান। দু’জনেই বয়স ভাঁড়িয়ে বাংলার অনূর্ধ্ব পর্যায়ে খেলেছেন। এঁদের মধ‌্যে বিকাশ সিংকে সিএবি-র এক শীর্ষকর্তা ‘বাঁচানো’র চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। কারণ, বিকাশ তাঁর ক্লাবের ক্রিকেটার। সিএবির সেই শীর্ষকর্তা নাকি বলেন যে, বয়স ভাঁড়িয়ে অনূর্ধ্ব-২৫ টুর্নামেন্ট খেলেছেন বিকাশ। যে টুর্নামেন্টের অস্তিত্ব এখন নেই। তাই বিকাশকে ছেড়ে দেওয়া হোক। সিএবি-র অন‌্যান‌্য কর্তাদের যে যুক্তি একেবারেই সঙ্গত মনে হয়নি। পালটা বলা হয়, করোনার সময় বোর্ডের অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্ট দু’বছরের জন‌্য অনূর্ধ্ব-২৫ হয়ে যায়। তাই বলে সেটা বোর্ড টুর্নামেন্ট নয়, ভাবাটাই ভুল। যাক গে। শেষ পর্যন্ত দু’জনের নামই বাদ যাচ্ছে বলে খবর। কিন্তু পিছু-পিছু আরও একটা প্রশ্ন চলে আসছে।

ক্রিকেটাররা কে কোথায় নথি নিয়ে গরমিল করছেন, তা ধরার জন‌্য বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় একটা ‘ভেরিফিকেশন সেল’ রয়েছে। তাতে চেয়ারম‌্যান-সহ একাধিক সদস‌্য রয়েছে। তাঁরা কি করছিলেন এত দিন? সেই ‘ভেরিফিকেশন সেল’ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে ছিল কেন? কেন বর্তমানে সর্বমোট বাদ যাওয়া পঁয়ষট্টি জনকে তারা ধরেনি?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement