পাকিস্তানে খেলতে এলেই বিপদ! তাই নিজের দায়িত্বে আসুন। পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL) শুরুর আগেই বিদেশি প্লেয়ারদের হুমকি জঙ্গিগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরারের। পিএসএলে স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার বা ড্যারিল মিচেলের মতো তারকা বিদেশি খেলেন। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সহযোগী এই জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকির পর তাঁরা পাকিস্তানে খেলতে যাবেন কি না সন্দেহ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও দেশ পাকিস্তানে খেলতে যাওয়ার আগেও ভাবতে বাধ্য হবে।
২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে পিএসএল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানে তেল সংকটের ফলে এমনিতেই পাক লিগে একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। আবার অনেক বিদেশি প্লেয়ার আইপিএলের ডাক পেয়ে ভারতে চলে আসছেন। এর মধ্যে আরও বড় বিপদ। জঙ্গিগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার হুমকি দিয়েছে, বিদেশি প্লেয়াররা যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের দায়িত্বে পিএসএলে খেলতে আসেন। তাদের বক্তব্য, তারা ক্রিকেটের বিরোধিতা করছে না। কিন্তু এই মুহূর্তে পাকিস্তানে ক্রিকেট আয়োজনের পরিস্থিতি নেই।
পাক সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীর যে বিবৃতি সোশাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, তার মুল বক্তব্য, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা আসলে 'কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে' দেওয়া। তাই তাদের তরফ থেকে বিদেশি বোর্ডগুলোকে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের এই বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের প্লেয়ার পাঠানো ঠিক হবে না। আর পাঠানো হলেও তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁদের উচিত পাকিস্তানে খেলতে না আসা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আসা।
উল্লেখ্য, জামাত-উল-আহরার ২০১৪ সালে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরি হয়েছিল। পরে ফের টিটিপি-তে যোগ দেয়। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় এরা খুবই সক্রিয়। পাকিস্তান সরকার এদের জঙ্গিগোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে। 'ইসলামিক রাষ্ট্রগঠন' ও 'খিলাফতি আন্দোলন' গড়ে তোলাই এদের মূল উদ্দেশ্য। অতীতে তারা পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে। ফলে তাদের হুমকি লঘু করে দেখতে রাজি নয় ওয়াকিবহাল মহল। এবার দেখার পাক সরকার শেষ পর্যন্ত এবছরের পিএসএল বন্ধ করে দেয় কি না।
