টি-২০ বিশ্বকাপ 'বয়কট' করে ইতিমধ্যেই ব্যাকফুটে বাংলদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এবার হাই কোর্টের তোপে পড়ল বিসিবি। গত বছর মহিলা দলের প্রাক্তন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন বাংলাদেশের তারকা পেসার জাহানারা আলম। সেই ঘটনায় তদন্ত শুরু করলেও দীর্ঘ টালবাহানা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বোর্ড। সেই নিয়েই এবার উচ্চ আদালত তীব্র ভর্ৎসনা করল বোর্ডকে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জাহানারার অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিম কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিসিবি আধিকারিক রুবাবা দৌলা এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল এই কমিটিকে। কিন্তু প্রায় তিনমাস কেটে গেলেও এই কমিটি রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। জাতীয় দলের মহিলা ক্রিকেটারকে যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর ইস্যু নিয়ে সরবও হয়নি বিসিবি।
তদন্ত কমিটির এই গড়িমসি ঘিরেই বিসিবিকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে বাংলাদেশের একটি হাই কোর্ট। আদালতের প্রশ্ন, গোটা ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ বোর্ড চুপ কেন? তদন্ত করতে যেভাবে ঢিলেমি করছে বিসিবি, সেটাকেও বেআইনি বলতে হয়। বিসিবিকে আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযোগ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে যা পদক্ষেপ করা হয়েছে সেগুলো আদালতে জানাতে হবে। আগামী দিনে কী তদন্ত করবে বিসিবি, সেটাও জানাতে নির্দেশ দেয় আদালত।
এই কড়া বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ বোর্ড। তড়িঘড়ি জমা দেওয়া হয়েছে তদন্তের রিপোর্ট। জাহানারার কথায়, তিনি জাতীয় দলে খেলার সময়ে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কাঁদতে কাঁদতে জাহানারা বলেছেন, ”নিপীড়নের মাত্রা এমন জায়গায় গিয়েছিল যে মঞ্জুরুল ভাই আমাকে বলতেন, তোমার পিরিয়ডস কবে শেষ হবে? যখন তুমি সেফ হবে তখন আমার সঙ্গে দেখা কোরো। অকারণে আমাদের জড়িয়ে ধরতেন। অশ্লীলভাবে কাঁধে হাত রাখতেন।” কিন্তু সেই বিস্ফোরক অভিযোগের কিনারা এখনও হয়নি।
