ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে গভীর সংকটে পড়তে চলেছে পাকিস্তান। সূত্রের খবর, আইসিসির তরফ থেকে ইতিমধ্যেই পাক বোর্ডকে জানানো হয়েছে, তারা যদি ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে তাহলে বার্ষিক অনুদানের পুরোটাই বাতিল করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, পাক বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারে টি-২০ বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থা জিও হটস্টার। সবমিলিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাক ক্রিকেটের মেরুদণ্ডটাই ভেঙে যেতে পারে।
পর্যাপ্ত কারণ ছাড়াই বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। এমনকী সরাসরি আইসিসি’র সঙ্গে যোগাযোগও করেনি পাক বোর্ড। সরকারের সোশাল মিডিয়া বার্তাকেই তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বলে ধরে নিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। মহসিন নকভির পাক বোর্ড ঠিক করেছে তারা আইসিসি’কে কিছু জানাবেও না। বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও সরকারি ইমেল পাঠাবে না তারা।
যেহেতু পাকিস্তান বোর্ড কিছুটা গোঁয়ার্তুমি করছে গোটা বিষয়টি নিয়ে, তাই এবার পাক বোর্ডের উপরেও খড়গহস্ত হতে চলেছে আইসিসি। সূত্রের খবর, আইসিসি থেকে পাক বোর্ডের বার্ষিক প্রাপ্য ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরোটাই আটকে দেওয়া হতে পারে। পাক মুদ্রায় এই অঙ্কটা ৯৮৪ কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল অর্থের মাধ্যমে পাক ক্রিকেটের অনেক খরচই মেটানো হয়। কিন্তু সেই অর্থের জোগান আটকে গেলে মূলত পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।
স্রেফ আইসিসির শাস্তিবাণ নয়, সম্প্রচারকারী সংস্থা থেকেও বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে পাক বোর্ড। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কেবল বিজ্ঞাপন থেকেই ৩০০ কোটি টাকা আয় হয়। ম্যাচের মাত্র ১০ সেকেন্ডের দাম ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে। পাকিস্তান না খেললে সেই বিপুল অর্থ হাতছাড়া হবে সম্প্রচারকারী সংস্থা জিও হটস্টারের। সেই লোকসান থেকেই পাক বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকতে পারে তারা। শোনা যাচ্ছে, আইসিসির সঙ্গে ইতিমধ্যেই পিছনের দরজা দিয়ে আলোচনা শুরু করেছে পিসিবি। কিন্তু তাতেও কি সুরাহা হবে?
