সিরিজ জয়ের পরের ম্যাচেই ভরাডুবি। বোলিং-ব্যাটিং দুই বিভাগেই বিপর্যয়। এমনিতে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দিন দশেক আগে এ হেন হারে টিম ম্যানেজমেন্টের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এই হার নিয়ে বিশেষ চিন্তিতই নয়। বরং হারের পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব যা বলে গেলেন, সেটার সারমর্ম হল, নিজেদের চ্যালেঞ্জ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল ভারত। আর সে কারণেই এই হার। সোজা বাংলায় বলতে গেলে, ইচ্ছাকৃতভাবে করা ভুলেই হার।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আর পাঁচটা সিরিজের মতো নয়। শুধু মাত্র জয়-পরাজয় দিয়ে এই সিরিজের গুরুত্ব বিচার করা ঠিক হবে না। দিন দশেক পর দেশের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভারত। দু'বছর আগে রোহিত শর্মরা কাপ জিতেছিলেন। চ্যাম্পিয়নের ট্যাগ নিয়ে টুর্নামেন্টে নামা সবসময় চাপের। তার উপর আবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর নিজেও জানেন, টিমের উপর কী পরিমাণ চাপ থাকবে। তাই এই সিরিজে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছেন তিনি। সেকারণেই নিজেদের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলতে চাইছিল টিম ইন্ডিয়া। সেটাই বলে গেলেন সূর্য।
ঈশান কিষাণ চোটের জন্য এই ম্যাচে খেলেননি। হয়তো বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই কোনও ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। তাঁর বদলে দিব্যি শ্রেয়স আইয়ারকে খেলানো যেত। চমকপ্রদভাবে টিম ম্যানেজমেন্ট সেটা না করে একজন ব্যাটারের বদলে অতিরিক্ত একজন বোলার খেলাল। ফলে এক ব্যাটার কমে গেল। দিনের শেষে সেটাই আত্মঘাতী হয়ে গেল। তাছাড়া এদিন টপ অর্ডারও দায়িত্ব নিয়ে খেলেনি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলছেন, "আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে ৬ জন ব্যাটার খেলিয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম ৫ জন বোলারকে খেলাতে। এবং নিজেদের চ্যালেঞ্জ করতে।" সূর্য বলছেন, "ধরুন আমরা ২০০ বা ১৮০ রান তাড়া করছি। আমরা যদি দ্রুত ২-৩ উইকেট হারিয়ে ফেলি তাহলে কেমন হতে পারে পরিস্থিতি, সেটাও দেখতে চেয়েছিলাম। দিনের শেষে হারতে হলেও সেটা কোনও ব্যাপার নয়।"
আসলে বিশ্বকাপের আগে দলে থাকা সব ক্রিকেটারকেই সুযোগ দিতে চাইছে ম্যানেজমেন্ট। তাতে সিরিজে নিয়মরক্ষার ম্যাচ যদি হারতে হয়, তাতেও বিশেষ যায় আসে না। সেটাই একপ্রকার বুঝিয়ে দিলেন সূর্যকুমার যাদব। ভারত অধিনায়ক বলছেন, "বিশ্বকাপে যারা খেলবে তাদের প্রত্যেককে আমরা দেখে নিতে চাইছিলাম। সেটা না হলে অন্যরকমভাবে দল সাজাতাম।"
