শুধু ফাঁকা আওয়াজ বা ভুয়ো হুমকি নয়। সত্যিই বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। যদি পুরো বিশ্বকাপ বয়কট না-ও করা হয়, অন্তত ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপের ম্যাচ না খেলার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে পিসিবি। সেজন্য আইসিসি যদি শাস্তির খাড়া চাপায়, তাহলে সেই শাস্তি এড়ানোর পরিকল্পনাও তৈরি করে ফেলেছে পাক বোর্ড। অন্তত এমনটাই পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির খবর।
বাংলাদেশের সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করেছে আইসিসি। এই অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপ বয়কট করার কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তারা বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা জানা যাবে শুক্র অথবা সোমবার। গত সোমবারই বিশ্বকাপ বয়কটের ব্যাপারে পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, মহসিন নকভি বিশ্বকাপ বয়কটের ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়েই ভাবছেন। নিতান্তই যদি বিশ্বকাপ বয়কট না করা হয়, তাহলে ভারত ম্যাচে দল না নামানোর ব্যাপারে বেশ 'সিরিয়াস' পাক বোর্ড। প্রথম দু'ম্যাচ যদি পাকিস্তান জিতে যায়, তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে যে দল নামানো হবে না সেটা একপ্রকার চূড়ান্ত।
তাতে যদি আইসিসির শাস্তি নেমে আসে সেটাও এড়ানোর পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ফেলেছে পিসিবি। পাক বোর্ড দেখাবে, এই সিদ্ধান্ত বোর্ডের নয়। একান্তই সরকারের। নিরাপত্তার কথা ভেবে ভারত ম্যাচে দল না নামানোর নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। তাই বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমনিতে নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেট সংস্থাই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকলে, সেই সংস্থাকে নির্বাসিত করা হয় বা বড় শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু পাক বোর্ড যদি প্রমাণ করতে পারে যে এই সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভেবে সরকার নিয়েছে। এক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বোর্ডের হাতে কিছুই নেই। তাহলে শাস্তি এড়ালেও এড়াতে পারে পিসিবি। আপাতত নকভিরা সেই পরিকল্পনাই করছেন।
আইসিসি ইতিমধ্যেই একপ্রকার হুমকি দিয়েছে বিশ্বকাপে না এলে চরম মূল্য দিতে হবে পাকিস্তানকে। মোটা আর্থিক জরিমানা, নির্বাসন, সম্প্রচার সত্ত্ব, স্পনসরশিপ বাতিল, পিএসএলে অনিশ্চয়তা এমন হাজারো সমস্যায় পড়তে হবে পাক দলকে। কিন্তু যে কৌশল পাক বোর্ড নিচ্ছে, তাতে অন্য দলের সমর্থন পেলে শাস্তি এড়াতেও পারে পাকিস্তান।
