নিউজিল্যান্ড: ২১৫ (সেইফার্ট ৬২, কনওয়ে ৪৪, অর্শদীপ ৩৩/২)
ভারত: ১৬৫ (শিবম ৬৫, রিঙ্কু ৩৯, স্যান্টনার ২৬/৩)
৫০ রানে জয়ী নিউজিল্যান্ড।
চতুর্থ টি-টোয়েন্টির আগে সব কিছু এক সুরে বাজছিল। ভারতের সামনে বিশেষ দুশ্চিন্তার কিছু না থাকলেও কিছুটা হলেও চিন্তা ছিল সঞ্জু স্যামসনকে ঘিরে। স্বাভাবিকভাবেই টিম ইন্ডিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটার বিশাখাপত্তনমে নজরে ছিলেন। সেই সঞ্জু ফের একবার ওপেনিংয়ে ব্যর্থ হলেন। কেবল সঞ্জু নন। টপ অর্ডারের দায়সারা ব্যাটিংই ভোগাল টিম ইন্ডিয়াকে। একা কুম্ভ হয়ে লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারলেন না শিবম দুবে। সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৫০ রানে ভারতকে হারাল নিউজিল্যান্ড।
জয়ের মোমেন্টাম ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামা ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের টসভাগ্য বুধবারও সুপ্রসন্ন ছিল। প্রথমে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড বেশ বেগ দিল ভারতকে। ২০ ওভার শেষে তারা তুলল ৭ উইকেটে ২১৫ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তালগোল পাকিয়ে যায় ভারতের। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাট হেনরিকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে থার্ড ম্যান অঞ্চলে ধরা পড়েন অভিষেক শর্মা (০)। গত দুই ম্যাচ ভালো খেললেও এই ম্যাচে ডাঁহা ফেল অধিনায়ক সূর্যকুমার। ডাফির বলে তাঁর হাতে ক্যাচ দিয়েই ব্যক্তিগত ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন সূর্যকুমার।
এই ম্যাচের আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটে টি-টোয়েন্টিতে সঞ্জুর রান ছিল মাত্র ১৬। সর্বোচ্চ ১০। বুধবার অবশ্য শুরুটা খারাপ করেননি। ব্যাটে বলের সংযোগও ঠিকঠাক হচ্ছিল। তিনটি চার এবং একটি ছক্কাও হাঁকান। রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে জুটিও গড়ে উঠছিল। কিন্তু ছ'ওভারের পাওয়ার প্লে-র পর ছন্দপতন। স্যান্টনারের বলে বোল্ড হলেন সঞ্জু (২৪)। এরপর কিউয়ি অধিনায়ক ফেরালেন হার্দিক পাণ্ডিয়াকেও (২)। কিন্তু রিঙ্কুর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল অসাধ্যসাধন হলেও হতে পারে। কিন্তু বাস্তবটা আলাদা। ফোক্সের বলে লাইন মিস করে ৩৯ রানে লড়াই শেষ হল রিঙ্কুরও।
কিন্তু যতক্ষণ শিবম দুবে, ততক্ষণ 'আশ'। মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ১২তম ওভারে ইশ সোধিকে ওভারে তুললেন ২৯ রান। এর মধ্যে ২টি চার, তিনটি বিশাল ছক্কা। ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করলেন। টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয়দের মধ্যে তৃতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি হাঁকালেন ৩২ বছর বয়সি ক্রিকেটার। তালিকায় প্রথমে রয়েছেন যুবরাজ সিং। এর পরেই অভিষেক শর্মা। তবে ভাগ্যের দোষে রান আউট হয়ে তাঁকে সাজঘরে ফিরতে হল। হর্ষিত রানার শট হেনরির হাতে লেগে উইকেটের অন্য প্রান্তে থাকা দুবের উইকেট ভেঙে দেয়। ২৩ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসের শেষটা এভাবেই হল। তখনই দেওয়াল লিখন কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ভারতের লোয়ার অর্ডারও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। ১৬৫ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। বিশ্বকাপের আগে এই হার অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল।
