স্টাফ রিপোর্টার: সোমবার কেকেআরের (KKR) বিরুদ্ধে নামার আগে পর্যন্ত তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র চারখানা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের। আর সেটাও কোথায়? ঘরোয়া ক্রিকেটে।

গত নিলাম থেকে পাঞ্জাবের অশ্বনী কুমারকে (Ashwani Kumar) মাত্র চল্লিশ লক্ষ টাকায় কিনেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians)। আজ্ঞে হ্যাঁ, মাত্র চল্লিশ লক্ষ টাকায়। কিনেছিল, পাঞ্জাবের স্থানীয় শের-ই-পাঞ্জাব টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তাঁর ডেথ ওভারের বোলিংয়ে দক্ষতা দেখে। কে জানত, রোগা-পাতলা চেহারার সেই পেসার অশ্বনী কুমার আইপিএলের গত বারের চ্যাম্পিয়ন টিমকে একা কাঁপিয়ে দিয়ে চলে যাবেন! আর সেটাও আইপিএলে তাঁর অভিষেক ম্যাচে?
এ দিনের আগে পর্যন্ত কেউ চিনতই না মোহালির ঝাঝেরি অঞ্চল থেকে উঠে আসা অশ্বনীকে। টসের সময় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া পর্যন্ত প্রথমে তাঁর নাম ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে যা অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ে গেলেন অশ্বনী, তা আইপিএলে কেউ কখনও ভুলবে না।
আজ পর্যন্ত তো কোনও ভারতীয় বোলার আইপিএল (IPL 2025) অভিষেকে চার উইকেট কখনও নেননি। যে কীর্তি সোমবারের ওয়াংখেড়েতে গড়ে গেলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বাঁ হাতি পেসার। অশ্বনীর এদিনের বোলিং পরিসংখ্যান শুনবেন? ৩-০-২৪-৪। আর তাঁর শিকার কারা? কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। রিঙ্কু সিং। মণীশ পাণ্ডে। এবং আন্দ্রে রাসেল।
ইনিংস বিরতিতে দুই ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী এবং হর্ষ ভোগলের সঙ্গে কথা বলতে প্রথমে কী বলবেন, বুঝতে পারছিলেন না অশ্বনী। "অসম্ভব ভালো লাগছে। ভেতরে ভেতরে যে কী চলছে, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তবে আইপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলছি বলে নার্ভাস ছিলাম। চাপ লাগছিল। কিন্তু টিম আমাকে বলেছিল যে, কোনও চাপ না নিতে," বলছিলেন তিনি।
এক্ষেত্রে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স স্কাউট টিমের কথাও বলতে হবে। অতীতে তারা হার্দিক পাণ্ডিয়া-জশপ্রীত বুমরাদের তুলে এনেছিল। যাঁরা এ মুহূর্তে দেশের রত্ন। অশ্বনী-ভিগনেশদেরও সে ভাবে তুলে এনেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স স্কাউট টিম। যা নিয়ে ধন্য-ধন্য চলছে চারদিকে।
অশ্বনীতে ফেরা যাক। শাস্ত্রী তাঁকে এ দিন জিজ্ঞাসা করেন, মধ্যাহ্নভোজে কী খেয়েছিলেন যে এমন ভয়ঙ্কর বোলিং করে গেলেন? উত্তরে বাঁ হাতি পেসার বললেন, "কিছুই খাইনি সার। টেনশনে ছিলাম মারাত্মক। একটা কলা খেয়েছিলাম মাত্র। আসলে প্রচণ্ড চাপে ছিলাম আমি। তাই খিদেও পায়নি।"
তবে অশ্বনী বলে গেলেন যে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া কথাবার্তা বলে তাঁর চাপ অনেক সহজ করে দিয়েছিলেন। "হার্দিক ভাই আমাকে বলে যে, এটা তোমার প্রথম আইপিএল ম্যাচ। চাপ না নিয়ে স্রেফ উপভোগ করো," বলছিলেন তরুণ পেসার। সঙ্গে যোগ করলেন, "আশা করছি, আমার গ্রামের লোকজন সবাই খেলা দেখেছেন আমার আজ। খুশিও হয়েছেন নিশ্চয়ই। আমি কথা দিচ্ছি, ভবিষতে সুযোগ পেলে ফের নিজের সর্বস্ব দেব।" অশ্বনীকেই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত করা হয় এদিন।