ক্রিকেট জীবনে বহুবার 'বঞ্চনা'র শিকার হতে হয়েছে সরফরাজ খানকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেও ব্রাত্য। আইপিএলের মঞ্চ যেন তাঁর কাছে কামব্যাকের লড়াই। মাত্র ৭৫ লক্ষ টাকায় 'নতুন জীবন' পেয়েছেন সরফরাজ। আর চেন্নাই সুপার কিংসের প্রায় ৩০ কোটির দুই তারকা যেখানে ব্যর্থ, সেখানে দলকে টানছেন সরফরাজই।
আইপিএলে (IPL 2026) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে কেরিয়ার শুরু সরফরাজের। পরে পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসে খেললেও কখনই নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। গত দু’বছর দলই পাননি। ফের কখনও আইপিএলে খেলবেন, সেই আশাই যেন হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গতবছর নিলামের শেষবেলায় তাঁকে মাত্র ৭৫ লক্ষ টাকায় কিনেছিল সিএসকে। তার পুরো 'দাম' দিচ্ছেন সরফরাজ।
হারের হ্যাটট্রিকে লিগ টেবিলে সবার শেষে চেন্নাই। তিন ম্যাচে ভরাডুবির মধ্যে একমাত্র উজ্জ্বল সরফরাজ। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৭ রান করেছিলেন। তারপর পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে শেষবেলায় ১২ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে সিএসকে'র রান ২০০-র উপর পৌঁছে দেন। রবিবার আরসিবি'র ২৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সঞ্জু স্যামসন, রুতুরাজ গায়কোয়াড়রা ব্যর্থ। সরফরাজ খানকেই একমাত্র চেষ্টা করতে দেখা গেল। তবে তাঁর ২৫ বলে ৫০ রানটা তপ্ত বালিতে জল ছেটানোর মতো। তিনি আরও খানিকক্ষণ ব্যাট করলে হয়তো ছবিটা অন্যরকম হতে পারত। কোহলি পর্যন্ত তাঁর ইনিংসের প্রশংসা করতে বাধ্য হন।
সেখানে রীতিমতো হতাশ করেছেন কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীর। দু'জনকেই ১৪.২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছে চেন্নাই। অর্থাৎ মোট খরচ পড়েছে ২৮.৪০ কোটি টাকা। ৩ ম্যাচে কার্তিকের রান ২৫। প্রশান্তর ২ ম্যাচে ৪৯। এটা ঠিক যে দু'জনেই প্রতিভাবান। ভালো খেলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। হয়তো লম্বা রেসের ঘোড়া হয়ে উঠবেন। কিন্তু চেন্নাই দলের যা অবস্থা, তাতে তাঁদের গড়েপিঠে তোলার মতো কেউ নেই। সেখানে একমাত্র সরফরাজই উজ্জ্বল।
